লামায় প্রবারণা পূর্ণিমার সরকারি বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ: ৫ বৌদ্ধ বিহার বাদ দিয়ে যুক্ত করা হয়েছে ক্রামা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি

সারাদেশ

বান্দরবানের লামা উপজেলায় শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে সরকারি খাদ্যশস্য বরাদ্দের তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য

2026-10-16T18:02:16+06:00
2026-10-16T18:02:16+06:00
শুক্রবার ● ১৬ অক্টোবর ২০২৬
৩১ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
লামায় প্রবারণা পূর্ণিমার সরকারি বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ: ৫ বৌদ্ধ বিহার বাদ দিয়ে যুক্ত করা হয়েছে ক্রামা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান
লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০২ পিএম  
ছবি-যাযাদি
বান্দরবানের লামা উপজেলায় শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে সরকারি খাদ্যশস্য বরাদ্দের তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য ৫টি বৌদ্ধ বিহারের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে অন্য ৮টি অপ্রাসঙ্গিক প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ নিয়ে গত ১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন পার্বত্য ভিক্ষু পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক উঃ নন্দমালা থেরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত বছরগুলোতে প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে ধর্মীয় রীতি ও আচার-অনুষ্ঠান পালনের জন্য লামা উপজেলার ৭৯টি বৌদ্ধ বিহার সরকারি খাদ্যশস্য বরাদ্দ পেয়ে আসছিল। তবে চলতি মৌসুমে সেই তালিকা থেকে রহস্যজনকভাবে ৫টি সক্রিয় বৌদ্ধ বিহারের নাম বাদ দেওয়া হয়। বাদ পড়া বিহারগুলোর মধ্যে রয়েছে— ইয়াংছা বড় পাড়া বৌদ্ধ বিহার, ইয়াংছা হেডম্যান পাড়া বৌদ্ধ বিহার, ইয়াংছা নামা পাড়া বৌদ্ধ বিহার, কৃপাশরণ ও নন্দমালা বৌদ্ধ বিহার এবং ঐতিহ্যবাহী জীনামেজু অনাথ আশ্রম বৌদ্ধ বিহার।

অন্যদিকে বাদ পড়া বিহারগুলোর স্থলে 'ক্রামা' ধর্মবিশ্বাসের ৮টি প্রতিষ্ঠানের নাম যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— লুলাইং নয়া পাড়া ক্রামা বিহার, নয়া আলক পাড়া ক্রামা বিহার, আলক পাড়া ক্রামা বিহার, ময়ূর পাড়া ক্রামা বিহার, চংকক পাড়া ক্রামা বিহার, ডলা পাড়া ক্রামা বিহার, বোচা পাড়া ক্রামা বিহার ও মংয়াং পাড়া ক্রামা বিহার।

এ বিষয়ে পার্বত্য ভিক্ষু পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক উঃ নন্দমালা থেরা জানান, "প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। 'ক্রামা' ভিন্ন একটি ধর্মীয় সংস্কার, এর আচার-অনুষ্ঠানের সাথে বৌদ্ধ ধর্মের কোনো ধরনের সামঞ্জস্য নেই। বৌদ্ধ বিহারের তালিকায় অন্য কোনো ধর্মের প্রতিষ্ঠানের নাম থাকা যুক্তিযুক্ত নয়। ক্রামা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা বরাদ্দ বা সময় থাকতে পারে। আমরা অবিলম্বে বিতর্কিত ৮টি নাম বাদ দিয়ে ঐতিহ্যবাহী ৫টি বৌদ্ধ বিহারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।"

তিনি আরও প্রস্তাব করেন, ভবিষ্যতে তালিকা তৈরি ও ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা আনতে প্রতিটি বিহারের পরিচালনা কমিটির সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকের নাম, মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা উল্লেখপূর্বক উপজেলা ত্রাণ বা সমাজসেবা বিভাগ দিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করানো উচিত।

লামা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা থোয়াইনু অং চৌধুরী বলেন, "যেকোনো তালিকা পাঠানোর আগে কর্তৃপক্ষের সঠিক যাচাই-বাছাই করা উচিত ছিল। জীনামেজু অনাথ আশ্রমের মতো একটি বড় ও সুপরিচিত প্রতিষ্ঠানের নাম বাদ পড়া অত্যন্ত লজ্জাজনক। অনতিবিলম্বে তালিকাটি পুনর্নিরীক্ষণ করা প্রয়োজন।"

তালিকার বিষয়ে জানতে চাইলে লামা উপজেলা ত্রাণ শাখা জানায়, প্রায় তিন মাস আগে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও সচিবরা যে তালিকা জমা দিয়েছিলেন, সেটিই ধর্ম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে লামা উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুর আলম জানান, "অভিযোগটি হাতে পেয়েছি। বিগত বছরগুলোর তালিকা ও নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করা হবে। জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সারাদেশ- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত