প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ পিএম
ছবি-যাযাদি কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের আনুষ্ঠানিকতায় শুরু হয়েছে এবারের দুর্গোৎসব। উৎসবকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে উপজেলার ৩৪টি পূজামণ্ডপে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের মহেশখালী উপজেলা শাখার তথ্য অনুযায়ী, এ বছর উপজেলায় মোট ৩৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মণ্ডপে প্রতিমা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা শ্রীশ্রী আদিনাথ মন্দিরে। বাকি ৩৩টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঘট পূজা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পূজামণ্ডপ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নেতারা জানিয়েছেন।
এরমধ্যে উপজেলার আটটি ইউনিয়নে ২৮টি এবং পৌরসভায় ৬টি পুজা মান্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার অনুষ্ঠিত হবে।
পূজাকে ঘিরে মণ্ডপগুলোতে চলছে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসবের প্রস্তুতি। পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও ফ্রন্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা মণ্ডপগুলোর কার্যক্রম তদারকির পাশাপাশি প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছেন। উৎসব চলাকালে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পূজার সূচি অনুযায়ী, শনিবার (১৭ অক্টোবর) ও রবিবার (১৮ অক্টোবর) মহাসপ্তমী, সোমবার (১৯ অক্টোবর) মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা এবং মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী পালিত হবে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতিবছর শরৎকালে কৈলাস থেকে মর্ত্যে পিতৃগৃহে আসেন দেবী দুর্গা। পুরাণ অনুসারে, অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভশক্তির প্রতিষ্ঠার প্রতীক দেবী দুর্গা। তাই ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এই উৎসব মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও কল্যাণের বার্তা বহন করে।
এবারের পঞ্জিকা অনুযায়ী, দেবী দুর্গার আগমন ঘোটকে (ঘোড়ায়) এবং গমন নৌকায়। পূজা উপলক্ষে মহেশখালীর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন এবং সবার অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন পূজা উদ্যাপনের দায়িত্বে থাকা নেতারা।