প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩১ পিএম
ছবি: সংগৃহীতজীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও জনসেবার মান নিয়ে অসন্তোষের জেরে ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের মধ্যে সহিংসতার শিকার হয়েছে দেশটির ঐতিহাসিক স্থাপনা। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশটির লিমোজেস শহরের ঐতিহাসিক টাউন হলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ভবনটির ছাদ ধসে পড়ে এবং প্রায় ৪৩ মিটার উচু বিখ্যাত ঘড়ির টাওয়ারটি ভেঙে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডে ভবনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিমোজেস শহরে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষোভের শেষ পর্যায়ে একদল মুখোশধারী ব্যক্তি শহরের ঐতিহাসিক টাউন হলের বাইরে থাকা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। পরে ভবনটির জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে ঢুকে নিচতলায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
লিমোজেসের টাউন হলটি ১৯ শতকের একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। ফরাসি স্থপতি চার্লস-আলফ্রেড লেক্লার্ক ভবনটির নকশা করেন। নিও-রেনেসাসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয়ে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৮৭৯ সালে এবং ১৮৮৩ সালে এটি উদ্বোধন করা হয়।
ভবনটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল ৪৩ মিটার উচু ‘ক্যাম্পানিল’ বা আলংকারিক ঘড়ির টাওয়ার। অগ্নিকাণ্ডে টাওয়ারটি ধসে পড়েছে। ছাদ ও ভবনের বাইরের অংশেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঐতিহাসিক স্থাপনাটির ভেতরে থাকা ম্যুরাল ও অন্যান্য স্থাপত্য নিদর্শনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
দুই বিশ্বযুদ্ধের সময় অক্ষত থাকা ভবনটির এমন পরিণতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের জন্য বড় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জরুরি নিরাপত্তা ও মেরামত কার্যক্রমের পর বিশেষজ্ঞরা ভবনটির চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করবেন।
ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও জনসেবার মান নিয়ে অসন্তোষ থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে বিক্ষোভের পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। লিমোজেসের টাউন হলে হামলাটি মূল বিক্ষোভের শেষ পর্যায়ে সংঘটিত সহিংসতার অংশ বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে হামলাকারীদের এক করে দেখার মতো পর্যাপ্ত তথ্যও প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ঐতিহাসিক স্থাপনাটির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।