প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৯ পিএম
ছবি-যাযাদি কক্সবাজারের টেকনাফে ফ্যামিলি কার্ডের জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
১২ অক্টোবর ২০২৬ ইংরেজি থেকে টেকনাফ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড, হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ড এবং বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ডে প্রাথমিকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হয়। এ কার্যক্রম প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে।
জরিপ টিমে রয়েছেন ১ জন সুপারভাইজার ও ১৪ জন তথ্য সংগ্রহকারী সহ মোট ১৫ জন।
জরিপ টিমে দায়িত্ব পালনরত সুপারভাইজার জিয়াউর রহমান বলেন, প্রথম দিনেই সাধারণ মানুষের অভাবনীয় সাড়া ও ইতিবাচক সহযোগিতা পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের সার্বিক তদারকি এবং প্রয়োজনীয় নিবিড় সহযোগিতার কারণে প্রথম দিন থেকেই খুব সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে জরিপ কাজ পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। আমাদের ১৪ জন তথ্য সংগ্রহকারী বাড়ি বাড়ি গিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তথ্য এনালিসিস ও সংগ্রহ করছেন। কোনো প্রকার প্রভাব, স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে থেকে প্রকৃত ও যোগ্য প্রান্তিক পরিবারগুলোকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় আনাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আশা করি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই একটি শতভাগ নির্ভুল ও স্বচ্ছ তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দিতে পারব।
টেকনাফ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার। এ কর্মসূচির আওতায় কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দলীয় বিবেচনা, পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়ম করা যাবে না। প্রকৃত দুস্থ, অসহায় ও যোগ্য পরিবারকে চিহ্নিত করতে নিরপেক্ষভাবে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করতে হবে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস.এম অনীক চৌধুরী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য প্রকৃত উপকারভোগীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের সমন্বয়ে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে। তাছাড়া ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের সংগৃহীত তথ্যের নির্ভুলতার ওপরই প্রকৃত হকদার পরিবারগুলো সরকারি সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করবে। জনকল্যাণমুখী এ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। একই সঙ্গে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকেও ধন্যবাদ জানাই।
জরিপ টিমে অংশগ্রহন করা কর্মীদের উদ্দেশ্যে ইউএনও বলেন, সততা, নিরপেক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কোনো প্রভাব বা পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। জাতি-গোষ্ঠী নির্বিশেষে প্রান্তিক ও প্রকৃত হকদার পরিবারের কাছে এ কর্মসূচির সুফল পৌঁছে দিতে হবে। এ কাজে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীদের চিহ্নিত করে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।