ছবি: যাযাদিচট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘উত্তর সাতকানিয়া’ নামেই পৃথক উপজেলা ও থানা গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে দোহাজারীকে ‘এক নম্বর পৌরসভা’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার কেরানীহাট চত্বরে ‘উত্তর সাতকানিয়া উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব ঘোষণা দেন।
সমাবেশে কালিয়াইশ, খাগরিয়া, কেঁওচিয়া, ধর্মপুর, বাজালিয়া ও পুরানগড় ইউনিয়ন থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ মিছিল নিয়ে অংশ নেন। দীর্ঘদিনের পৃথক উপজেলা ও থানা গঠনের দাবিতে আয়োজিত এ সমাবেশে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্তমান উপজেলা সদর থেকে ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে প্রশাসনিক ও পুলিশি সেবা নিতে তাদের দীর্ঘদিন ধরে সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। নানা ধরনের ভোগান্তিরও মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। পৃথক উপজেলা ও থানা গঠিত হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজ হবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও হয়রানি অনেকাংশে কমে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবটি প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তসহ বিভাগীয় কমিশনারের সুপারিশ নিয়ে পাঠানোর জন্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ।
এর ধারাবাহিকতায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর প্রস্তাবিত উত্তর সাতকানিয়া থানা গঠনের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত ও জনমত যাচাইয়ের লক্ষ্যে কালিয়াইশ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
গণশুনানিতে অংশ নেওয়া সংশ্লিষ্ট ছয় ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দারা নতুন উপজেলা ও থানার নাম ‘উত্তর সাতকানিয়া’ রাখার দাবি জানান। তারা স্পষ্ট করেন, অন্য কোনো নামকরণ তারা মেনে নেবেন না। প্রয়োজনে উত্তর সাতকানিয়া নাম না হলে সাতকানিয়ার সঙ্গেই থাকার ঘোষণা দেন তারা।
দীর্ঘদিনের দাবি, নতুন উপজেলা গঠনের বিষয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং গণশুনানির পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্যের এ ঘোষণায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। পৃথক উপজেলা ও থানা গঠিত হলে প্রশাসনিক সেবা পাওয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন তারা।
তবে উত্তর সাতকানিয়া নামে পৃথক উপজেলা ও থানা গঠনের প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়ন হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি সিদ্ধান্ত ও দাপ্তরিক অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। সংসদ সদস্যের ঘোষণার পরও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সরকারি অনুমোদনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।