ছবি: যাযাদিবরগুনার তালতলীতে জমি ও দোকানঘর দখল, বকেয়া ভাড়া পরিশোধ না করা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগের প্রতিকার ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা আবু-বকর সিদ্দিক নসু মৃধা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জমিটির মালিকানা দাবি করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আকন মো. আল-মামুন। তার পাল্টা অভিযোগ, নসু মৃধা ও তার সহযোগীরা তাদের দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর দুই টায় তালতলী প্রেসক্লাবের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন নসু মৃধা। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও বিএনপি নেতা আকন মো. আল-মামুন এবং তালতলী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে নসু মৃধা অভিযোগ করেন, তালতলী উপজেলা শহরের বটতলা এলাকায় তার মালিকানাধীন জমি ও দোকানঘর বাস কাউন্টার পরিচালনার জন্য ভাড়া নেন আকন মো. আল-মামুন ও নাসির উদ্দিন। গত তিন মাসের ভাড়া বাবদ ১৭ হাজার টাকা ও বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য অনুরোধ করা হলে তারা টাকা না দিয়ে উল্টো তাঁকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নসু মৃধার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৬ অক্টোবর বকেয়া টাকা আদায়ের দাবিতে তিনি দোকানঘর থেকে দুটি চেয়ার ও একটি টেবিল সরিয়ে নেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আকন মামুন ও তাঁর সহযোগীরা আশপাশে থাকা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং জেলা বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদকের ছবি-সংবলিত ব্যানার ও ছবি ভাঙচুর করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
নসু মৃধা আরও দাবি করেন, ঘটনার পর নিজেদের দায় আড়াল করতে এবং তার রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে দলের শীর্ষ নেতাদের ছবি ভাঙচুরের ঘটনা সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, আকন মামুন ও নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি নৌপরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসানের নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাদাবাজি ও জমি দখলের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
নসু মৃধার অভিযোগ অস্বীকার করে আকন মো. আল-মামুন বলেন, জমিটি ক্রয়সূত্রে তাদের মালিকানাধীন। তার দাবি, আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুজ্জামান তনু অন্যায়ভাবে জমিটি দখল করে সেখানে দোকানঘর নির্মাণ করেছিলেন। গত ৫ আগস্টের পর প্রশাসন ও ছাত্রদলের যৌথ সহযোগিতায় জমিটি উদ্ধার করা হয়।
আল-মামুন আরও বলেন, বর্তমানে ওই স্থানে তারা ব্যবসায়িক ও দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তার পাল্টা অভিযোগ, নসু মৃধা ও তার সহযোগীরা তাদের দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন।
এ বিষয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার দিন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জমির মালিকানা, বকেয়া ভাড়া, দোকানঘর থেকে আসবাব সরানো এবং ভাঙচুরের অভিযোগ নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পর এখন পুলিশের তদন্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।