ছবি: যাযাদি মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের অংশগ্রহণের ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। কেউ যদি মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থী কোনো কাজ করেন, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতিমধ্যে তিনি তা প্রমাণ করেছেন। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন, বিষয়টি সবাইকে মাথায় রাখতে হবে।
সোমবার সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ, সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক ও অন্য চাকরিজীবীদের অংশগ্রহণের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে এখনো আইনগত কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে বিকল্প কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, ইতিবাচক পরিবর্তনের বিষয়ে আশা রাখা যায়। সরকারের কাজের মাধ্যমেই এর প্রমাণ পাওয়া যাবে।
সম্প্রতি অনিয়মের মাধ্যমে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল হিসেবে তাদের রাজনীতি করার জন্য একটি বিষয় প্রয়োজন। তাঁর দাবি, বিরোধী দল অনেক ক্ষেত্রেই সরকারের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে থাকে।
মন্ত্রী বলেন, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি বলেও দাবি করেন তিনি। জামায়াতের অভিযোগকে তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, তারা এ অভিযোগ বিশ্বাস করেন না।
এর আগে সোমবার সকালে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সভায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের নতুন ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে অংশগ্রহণের ঘটনা, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণ এবং সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী।