প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৩.১০.২০২৬ ৩:২৫ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
তাইজুল সরদার * আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে এ হত্যাকাণ্ড
* এ ঘটনায় অন্তত পাচ জন গুরুতর আহত হয়েছে
* জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় বোরকা পরে এসে হামলার পর দুই পক্ষের সংঘর্ষে তাইজুল সরদার (২৪) নামের এক তরুণ নিহত হয়েছেন। হামলার আগে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ করে আতঙ্ক তৈরি করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত পাচজন গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে ঢাকা মেডিকাল কলেজ হসপিটালে পাঠানো হয়েছে।
নিহত তাইজুল ইসলাম মাদারীপুর সদর উপজেলার কুলপদ্বী এলাকার প্রয়াত রুস্তম আলী সরদারের ছেলে। তিনি সদর উপজেলার আলোচিত মোয়াজ্জেম ও বোরহান হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। মামলার কারণে তিনি কালকিনিতে তার মামার বাড়িতে থাকতেন।
গুরুতর আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন— কালকিনির আলীনগর ইউনিয়নের কালীনগর এলাকার মোতালেব চৌকিদারের ছেলে জহির চৌকিদার (৩৫) ও মহাসিন চৌকিদার (৪২) এবং মাদারীপুর সদর উপজেলার কুলপদ্বী এলাকার বারেক সরদারের ছেলে আলামিন সরদার (৩৫)। উন্নত চিকিৎসার জন্য জহির ও মহাসিনকে ঢাকা মেডিকালে নেয়া হয়েছে। আলামিন মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হসপিটালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে কালীগঞ্জ বাজারের হানিফের চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ওরফে মিলন সরদার এবং তার অনুসারী জহির ও মহাসিন চৌকিদার। তখন সদর উপজেলার কুলপদ্বী এলাকার তাইজুল সরদার, আলামিন সরদারসহ কয়েক জন বোরকা পরে সেখানে যায়। তারা কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হাফিজুর রহমান ও তার অনুসারীদের ওপর হামলা করেন। এ সময় হাফিজুর রহমানকে বাচাতে তার অনুসারীরা প্রতিরোধ করলে জহির ও মহাসিন গুরুতর আহত হন। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় তাইজুলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেয়া হয়। পথে অবস্থার অবনতি হলে তাইজুলকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হসপিটালে নিলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জহির ও মহাসিনকে ঢাকায় নেয়া হয়। আর আলামিন সরদারকে মাদারীপুর সদর হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে।
আলীনগর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান মিডিয়াকে বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো মতো আজ (বৃহস্পতিবার) চায়ের দোকানে আমরা আট থেকে ১০ জন চা খাচ্ছিলাম। হঠাৎ সাত থেকে আটজন লোক বোরকা পরে দোকানের সামনে আসে। তারা ব্যাগ থেকে ককটেল বের করার পর হামলা করে। আমার সামনে যারা বসা ছিল, তারা তাৎক্ষণিকভাবে আমাকে বাচাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের ধায়া দেয়।’
হাফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, সম্প্রতি এই হামলাকারীরা তার বাড়িতে আগুন দিয়েছিল। আগেও অসংখ্যবার তার ক্ষতি করতে হামলা করেছে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অনুসন্ধান) জাহাঙ্গীর আলম মিডিয়াকে বলেন, মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এ বিষয়ে অনেক প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ। তার ভাষ্য, নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য করেই হামলাটি চালানো হয়। জহির ও মহাসিনকে লক্ষ্য করে মূলত হামলা চালানো হয়েছিল। নিহত তাইজুল হামলাকারীদের একজন ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা আছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।