
* অপেক্ষমাণ রয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার ১০টি আবেদন
* বাতিল হয়েছে ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৭টি আবেদন
* বেশি আবেদন জমে আছে ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চলে
জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংশোধনে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন পর্যন্ত জমা পড়া ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৮৪২টি সংশোধন আবেদনের মধ্যে ৬৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৩২টি নিষ্পত্তি করেছে সংস্থাটি। তবে বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তির পরও এখনো অপেক্ষমাণ রয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার ১০টি আবেদন। অন্যদিকে, বিভিন্ন কারণে বাতিল হয়েছে ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৭টি আবেদন।
আবেদন নিষ্পত্তিতে সময়সীমা নির্ধারণ, মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম আরো গতিশীল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এনআইডি সংশোধনে গতি এলেও এখন মূলত তিনটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন, দ্রুত আবেদন নিষ্পত্তি, অযৌক্তিক আবেদন বাছাই এবং জালিয়াতি প্রতিরোধ।
বর্তমানে ক্যাটেগরি-ভিত্তিক পর্যালোচনায় ‘ঘ’ ক্যাটেগরিতেই নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে ৬৯ হাজার ২৫২টি আবেদন (এর মধ্যে ২০২৬ সালের ৬৮,২৬৯টি এবং ২০২৫ সালের ৯৮৩টি)। অঞ্চল-ভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমে আছে ঢাকা (১০,৬১৫টি) ও কুমিল্লা অঞ্চলে (১০,৫৫৯টি)। এ ছাড়া ময়মনসিংহ, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও রংপুরেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আবেদন ঝুলে রয়েছে।
এনআইডি সংশোধনে গতি আনতে আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিষ্পত্তির ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, মূল লক্ষ্য হচ্ছে নির্ভুলভাবে সেবা দেয়া এবং অনর্থক ও অযৌক্তিক আবেদনগুলো দ্রুত বাতিল করা। বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে এরই মধ্যে বিপুল আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
এনআইডিতে জন্ম তারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে অনলাইনে যাচাইযোগ্য শিক্ষা সনদকে (জেএসসি, মাধ্যমিক বা সমমানের) গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পরিপত্র অনুযায়ী, এসব সনদের ভিত্তিতে আবেদন ‘ক’ ক্যাটেগরিতে অন্তর্ভুক্ত করে উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করতে পারবেন (তবে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ প্রযোজ্য নয়)।
সিদ্ধান্তের সঠিকতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা প্রতি মাসে দৈবচয়নের ভিত্তিতে অন্তত তিনটি নিষ্পত্তি করা আবেদন যাচাই করে প্রতিবেদন পাঠাবেন।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. সাইফুল ইসলাম মিডিয়াকে জানান, অনেক আবেদনে চরম অসংগতি দেখা যায়, যেমন বাবা ও সন্তানের বয়সের ব্যবধান মাত্র ১০ বছর দেখানো বা ভোটার হওয়ার সময় বয়স ১৮ বছরের কম হয়ে যাওয়া। এসব আবেদন সরাসরি বাতিল করা হচ্ছে। তা ছাড়া একটি ক্যাটেগরিতে আবেদন বাতিল হলে অনেকে আবার অন্য ক্যাটেগরিতে একই আবেদন করেন, যা জট বাড়ায়।
এনআইডি জালিয়াতি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে ইসি। সচিব আখতার আহমেদ জানান, জালিয়াতিতে জড়িতদের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে এবং ভেতরের কেউ জড়িত থাকলে নেয়া হচ্ছে প্রশাসনিক ব্যবস্থা। জালিয়াতি আগাম প্রতিরোধে একটি নতুন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চালুর সম্ভাব্যতাও যাচাই করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রতি মাসে ৮০ থেকে ৯০ হাজার নতুন আবেদন জমা পড়ার বাস্তবতায় কেবল নিষ্পত্তির গতি বাড়িয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নিবন্ধনের সময় তথ্য যাচাই জোরদার করা, আবেদনকারীদের সঠিক তথ্য দেয়ার বিষয়ে সচেতন করা এবং সংশোধনের প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ।
তারা মনে করেন, ৬৪ লাখের বেশি আবেদন নিষ্পত্তির সাফল্যের পর এখন নির্বাচন কমিশনের সামনে বড় পরীক্ষা— অবশিষ্ট আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি ভবিষ্যতে সংশোধনের প্রয়োজন কমিয়ে নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।