প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৫ পিএম
ছবি: যাযাদিগাইবান্ধা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ৬ হাজার ৮৪৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। আদালতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ সংখ্যাকে গাইবান্ধার ইতিহাসে রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে বিচারক ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর সংকটের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মামলা বিচারাধীন থাকায় বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।
আদালতের নাজির মো. রেজাউল করিম সরকার এ তথ্য জানিয়েছেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে সিআর, জিআরসহ বিভিন্ন ধরনের মামলা রয়েছে। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এক জানুয়ারি আদালতে প্রারম্ভিক বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ১৮ হাজার ৯৫৬টি। এক জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে নতুন করে সাত হাজার ৭৮৩টি মামলা দায়ের হয়।
এ ছাড়া জেলা জজ আদালত থেকে পাচ লাখ টাকার নিচে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার মামলাসহ বদলির মাধ্যমে বিভিন্ন মামলা এ আদালতে আসে। এসব মামলাসহ আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দাড়ায় ২০ হাজার ২১৩টি। একই সময়ে বিভিন্ন আদালতে বিচারের জন্য বদলি করা হয়েছে ২১ হাজার ৯৭টি মামলা। সবশেষে বর্তমানে গাইবান্ধা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৯ হাজার ৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে।
আদালতে মামলা নিষ্পত্তির গতি বাড়লেও বিচারক ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর সংকট রয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ মোট ১১টি বিচারকের পদ থাকলেও এর মধ্যে চারটি পদ এখনও শূন্য। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন সাতজন বিচারক।
বিচারসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানান, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে গাইবান্ধায় যোগ দেওয়ার পর মামলা নিষ্পত্তির হার বেড়েছে। তাদের মতে, তার যোগদানের পর মামলার জট কমাতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে।
গাইবান্ধা কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হিপজুর আলম মুন্সী বলেন, নির্ধারিত দিনে সাক্ষী হাজির না হওয়ায় অনেক সময় মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হয়। তবে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকদের তাগাদার কারণে সময়মতো সাক্ষী হাজির নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এতে মামলা নিষ্পত্তির গতি বেড়েছে।
তিনি জানান, সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিতি নিশ্চিত করার ফলে গত নয় মাসে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। গাইবান্ধার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান বলেন, সম্প্রতি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা নিষ্পত্তির হার বহুগুণ বেড়েছে। এর ফলে বিচারপ্রার্থীরা উপকৃত হচ্ছেন।
তবে আদালতে বর্তমানে ১৯ হাজারের বেশি মামলা বিচারাধীন থাকায় নিয়মিত মামলা নিষ্পত্তির পাশাপাশি পুরোনো মামলার জট কমানোও গুরুত্বপূর্ণ। বিচারক ও অবকাঠামোগত সংকট নিরসন করা গেলে বিচারপ্রক্রিয়া আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ রয়েছে।