প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৩ পিএম
ছবি: যাযাদিকক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পহরচাদা ইউনিয়নে মাতামুহুরী নদীর ওপর নবনির্মিত রেল সেতুর বিকল্প পথের রেলিং থেকে প্রায় ১৫০ ফুটের বেশি লোহার পাইপ চুরি হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা এসব পাইপ কেটে ও খুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে সেতুর বিকল্প পথ দিয়ে চলাচলকারী পথচারী ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত রেলিং সংস্কার এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বুধবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর বিএমচর অংশের বিকল্প পথের রেলিংয়ের দীর্ঘ অংশে লোহার পাইপ নেই। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বিশেষ করে রাতে অন্ধকারে চলাচলের সময় অসতর্ক হলে পথচারীরা নিচে মাতামুহুরী নদীতে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর নবনির্মিত রেল সেতু ও আশপাশের নির্জন এলাকায় বখাটেদের আনাগোনা এবং মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। মঙ্গলবার রাতেও সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা দেখা গেছে বলে তারা দাবি করেন। তবে রেলিংয়ের পাইপ চুরির সঙ্গে মাদকসেবীদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সেতু এলাকার বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মী রুবেল খান বলেন, মঙ্গলবার রাতের ঘটনার পর থেকে তারা আতঙ্কে আছেন। রেলিংয়ের পাইপ চুরি হয়ে যাওয়ায় রাতে ওই পথ দিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগছে। অন্ধকারে একটু পা পিছলে গেলেই নদীতে পড়ে যাওয়ার ঝুকি রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এর আগেও এ বিষয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে ছবি ও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। এরপরও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি ও নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপের অভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরির ঘটনা ঘটছে বলে তাদের অভিযোগ। সাম্প্রতিক চুরিতে সরকারের লক্ষাধিক টাকার সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করছেন তাঁরা।
চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিভক্ত বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার বলেন, রেল সেতুটি এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্পের অংশ। মঙ্গলবার রাতের চুরির বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। স্থানীয়ভাবেও নজরদারি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। রেল সেতুর পাইপ চুরির মতো অপরাধ দুঃখজনক ও ঝুকিপূর্ণ। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসী চুরি যাওয়া পাইপের জায়গায় দ্রুত নতুন রেলিং স্থাপন, স্থায়ী পুলিশি পাহারা এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।