ছবি: সংগৃহীতগণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ভারতকে কয়েক দফায় অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।
আজ দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরতে পারেন, এমন আলোচনা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি তারাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুনেছেন। তবে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা আমরাও শুনছি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ডিসেম্বরে আসতে চান। তাঁকে ফেরত পাওয়ার জন্য প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে আমাদের প্রতিবেশী দেশকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কয়েক দফা অনুরোধপত্র পাঠিয়েছি। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার।’
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আলোচনা ঘিরে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি শুরু থেকেই এ ধরনের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে বলে সরকার মনে করে।
তিনি বলেন, ‘পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তির এ ধরনের অপপ্রয়াস প্রথম থেকেই চলছে। তারা বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায় এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়।’ সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তারা নিজেদের কৌশল অনুযায়ী এমন চেষ্টা করতে পারে। তবে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে যাওয়া এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কোনো অপতৎপরতা দেশে চলতে দেওয়া হবে না। অস্থিরতা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে বলেও জানান তিনি।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে বলেও জানান তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ব্যাপারে রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে।’
তিনি জানান, ত্রয়োদশ সংশোধনী-সংক্রান্ত সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের পথ তৈরি হয়েছে। তবে এ ব্যবস্থা কার্যকর করতে আইনসভার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করে তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ‘আইনসভায় সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সেই আইন আবার প্রতিস্থাপন করতে হবে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে বহাল করতে হবে। এটা আমরা করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন তাঁদের আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই এ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হবে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতের রায়ের পরও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এ জন্য আইনসভার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিহত করা এবং আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আয়োজনের বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী।