প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৫.১০.২০২৬ ৬:২০ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করে কৃষকদের ওপর হামলা চালিয়েছে ইনডিয়ান সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এ সময় বাংলাদেশের কৃষকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করলে ককটেল ও গুলি ছুড়ে ইনডিয়ার অভ্যন্তরে চলে যায় বিএসএফ সদস্যরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের বামনদল সীমান্তের ৮৩৭/৪এস নাম্বার মেইন পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, সন্ধ্যায় বাংলাদেশের কৃষকরা মাঠে কাজ করছিল। এ সময় বেশ কয়েক জন বিএসএফ সদস্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। বাংলাদেশিদের জমি থেকে তাদের চলে যেতে বলে। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি হলে তারা লাঠিসোটা দিয়ে কৃষকদের ওপর হামলা চালায়। পরে কৃষকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে লাঠি দিয়ে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে বিএসএফের সদস্যরা বাংলাদেশিদের উদ্দেশ করে ককটেল, সাউন্ড বোমা ও কয়েক রাউন্ড ফাকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে ইনডিয়ার সীমানায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছায় বিজিবির টহল দল। বিএসএফের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং গুলি ও বোমা বর্ষণের ঘটনার কঠোর ও তীব্র প্রতিবাদ জানায় বিজিবি।
তবে এ ঘটনার পর থেকে বামনদল সীমান্তে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম মিডিয়াকে বলেন, আমরা এ ধরনের একটি ঘটনার কথা শুনেছি এবং এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও দেখেছি। তবে যেহেতু এটি সম্পূর্ণ সীমান্ত এলাকার বিষয়, তাই বিজিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কিছু না জানানো হলে আমরা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারছি না। এ বিষয়ে লালমনিরহাট ৫১ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মুহা. শাহীনুল ইসলাম মিডিয়াকে বলেন, এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক বিজিবির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পতাকা বৈঠকে ডাক দেয়া হয়েছে। এখানে প্রতিবাদসহ এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটায় সেটিও বলা হবে।
তিনি আরো বলেন, বিএসএফের দাবি- পাথর উত্তোলনকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটেছে। তবে কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।