মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রধান মন্ত্রীর

বাগেরহাট প্রতিনিধি

শেষ পাতা

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান। নির্ধারিত প্রটকলের বাইরে গিয়ে হঠাৎ গাড়ি

2026-10-23T00:00:00+06:00
2026-10-23T15:13:39+06:00
সোমবার ● ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১০ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
শেষ পাতা
মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রধান মন্ত্রীর
বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম  আপডেট: ২৩.১০.২০২৬ ৩:১৩ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের স্পিড বোটে চড়ে মোংলা বন্দরে যাচ্ছেন। এ সময় তিনি মোংলার নৌঘাটি বানৌজা এলাকায় জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান —স্টার মেইল

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান। নির্ধারিত প্রটকলের বাইরে গিয়ে হঠাৎ গাড়ি থেকে নেমে পথে অপেক্ষমাণ নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে হাত মেলালেন প্রধান মন্ত্রী। তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, কুশল জিজ্ঞাসা ও খোজ-খবর নেন তিনি। প্রধান মন্ত্রীকে এত কাছ থেকে দেখা এবং সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন উপস্থিত বিএনপির নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ। বৃহস্পতিবার বিকালে মোংলা বন্দর পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে। প্রধান মন্ত্রীর আকস্মিক এ উপস্থিতিতে সেখানে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে অনেকেই আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ে।

এর আগে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মোংলা বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন প্রধান মন্ত্রী। এ সময় বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আধুনিকায়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে মোংলা বন্দরের জেটি এলাকায় পৌছে প্রধান মন্ত্রী বন্দর সম্প্রসারণ প্রজেক্ট, জেটি সুবিধা, কনটেইনার ইয়ার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঘুরে দেখেন। এ সময় বন্দরের কার্যক্রম ও উন্নয়ন প্ল্যান নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। দ্রুত পণ্য খালাস, বন্দর পরিচালনার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা আরো জোরদার করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন প্রধান মন্ত্রী।
বন্দর পরিদর্শন শেষে বিকাল সাড়ে ৪টার পর প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। পথে বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষকে অপেক্ষমাণ দেখে গাড়ি থামিয়ে নেমে পড়েন প্রধান মন্ত্রী। এ সময় তাদের সঙ্গে হাত মেলান, শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং খোজ-খবর নেন। প্রধান মন্ত্রীর এমন আকস্মিক উপস্থিতি ও আন্তরিক আচরণে উপস্থিত মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। পরে বেজার প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেন প্রধান মন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে মোংলা ত্যাগ করেন তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে হেলিকপ্টারে সুন্দরবন পরিদর্শন করেন প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান। আকাশপথে সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্ট, হিরণ পয়েন্ট ও ত্রিকোণ আইল্যান্ড-সংলগ্ন এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। পরে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান হাই স্কুল মাঠে নামেন। সেখান থেকে তিনি নৌ বাহিনীর বানৌজা মোংলা ঘাটিতে পৌছান। এরপর সরাসরি যান মোংলা বন্দরের জেটি এলাকায়। বন্দরের প্রধান ফটকে পৌছালে সেখানে জড়ো হওয়া বিএনপির নেতা-কর্মীরা প্রধান মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা তার সঙ্গে ছিলেন।

প্রধান মন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে মোংলা বন্দর এলাকায় বিপুল সংখ্যক বিএনপির নেতা-কর্মী জড়ো হন। মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপির মোংলা পৌর শাখার সভাপতি মো. জুলফিকার আলী এবং মোংলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদারের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন। তাদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপির মোংলা পৌর শাখার সভাপতি মো. জুলফিকার আলী বলেন, ‘প্রধান মন্ত্রীর এ সফরকে কেন্দ্র করে মোংলাসহ দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এ সফরের মাধ্যমে মোংলা বন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তারা আশা করছেন। তিনি আরো বলেন, ‘মোংলা বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বেজার প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ন এবং উপকূলীয় এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন।’

সংশ্লিষ্টদের মতে, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ন এবং সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেয়া গেলে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। প্রধান মন্ত্রীর এ সফর ঘিরে স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশাও এখন উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে কেন্দ্র করে।

শেষ পাতা- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি, লাভ রোড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত