ছবি-যাযাদি মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও মানুষের কল্যাণে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ইমাম মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।
পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রির টাকায় নার্সারি গড়ে তুলে শুরু করেন তাঁর এই উদ্যোগ। এরপর নিজের অর্থ ও শ্রমে সড়কের পাশে, হাটবাজারে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদ প্রাঙ্গণে লাগিয়েছেন হাজার হাজার গাছের চারা। তাঁর লাগানো গাছের অনেকগুলো এখন বড় হয়েছে, বদলে দিয়েছে গ্রামের সড়কের চিত্র। দীর্ঘদিনের এই উদ্যোগের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সৌজন্য সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এতে উচ্ছ্বসিত ও কৃতজ্ঞ এই বৃক্ষপ্রেমী ইমাম।
রেজাউল কিবরিয়া বাবুল চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বায়তুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ১৯৯৩ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় আট লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার ভূঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন তিনি। সেই নার্সিয়ায় উৎপাদিত চারা দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ শুরু করেন। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেন।
দীর্ঘদিনের শ্রম ও পরিচর্যায় তাঁর লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়েছে। সড়কের পাশে বেড়ে ওঠা এসব গাছ পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে, পরিবেশের সৌন্দর্যও বাড়াচ্ছে। তাঁর বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের অন্যতম দৃষ্টান্ত ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়ক। প্রায় দুই দশক আগে সড়কটির দুই পাশে লাগানো শত শত তালগাছ এখন সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। ছোট ছোট চারা থেকে বেড়ে ওঠা গাছগুলো সড়কটিকে দিয়েছে ভিন্ন এক প্রাকৃতিক রূপ। তালগাছের পাশাপাশি বিভিন্ন ফলজ ও ঔষধি গাছও লাগিয়েছেন তিনি।
বাবুলের এই উদ্যোগের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। পরে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আমন্ত্রণপত্র পান তিনি। গত ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাবুল। এ সময় তাঁর বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে উৎসাহ দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আমন্ত্রণ ও নিজের কাজের স্বীকৃতি পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমার কাজের মূল্যায়ন করায় মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি।”
নিজের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের পরিসর তুলে ধরে তিনি বলেন, “এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা রোপণ করেছি। এর মধ্যে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে। আমি এই কাজকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে গণ্য করি। যত দিন বেঁচে থাকব, তত দিন গাছ লাগিয়ে যেতে চাই।”
বাবুলের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ। তিনি বলেন, “গাছ লাগানো নিঃসন্দেহে একটি মহৎ উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক কাজ সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়ায় আমরাও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ।”
ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসা রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের প্রত্যাশা, তাঁর এই কাজ দেখে অন্যরাও গাছ লাগাতে উৎসাহিত হবেন। তাঁর মতে, পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এ কাজে ব্যক্তি ও সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার লক্ষ্যে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বৃক্ষরোপণ চালিয়ে যেতে চান তিনি।