প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৮ পিএম
ছবি-যাযাদি পারিবারিক কলহের জেরে গভীর রাতে মাদকাসক্ত অবস্থায় স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করছিলেন ছেলে আনোয়ার হোসেন। সেই ঝগড়া থামাতে গিয়েছিলেন বাবা আব্দুস ছামাদ মিয়া। একপর্যায়ে ছেলের দৌড়ানির পর লাঠির আঘাতে প্রাণ চলে যায় ওই হতভাগা বাবার। মর্মান্তিক ওই ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার সাইটালিয়া গ্রামে।
সোমবার ভোর রাত সোয়া ৩টার দিকে ওই গ্রামের বন্না ভিটায় এলাকায় ওই মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান বাবা।
নিহত মো: আব্দুস সামাদ (৬০) ওই গ্রামের ডাক্তার মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন (৩৫) তার ছেলে। এর আগে ভোর সাড়ে ৩টার দিকে আনোয়ার হাসেন তার বাবাকে আঘাত করে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যান।
নিহতের স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,' দীর্ঘ ১৮বছর সৌদি প্রবাস জীবন শেষে দেশে এসে পিকআপ কিনে চালাতেন আব্দুস ছামাদ। বেশ কিছুদিন আগে একমাত্র ছেলে আনোয়ার হোসেন মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। মাদকাসক্তি থেকে ছেলেকে ফেরাতে নানা চেষ্টা করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁকে পাঠানো হয়েছিল সৌদি আরবে। দুবার নেওয়া হয়েছিল মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে। এমনকি তাবলিগ জামাতেও পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো কিছুতেই নেশা ছাড়েননি আনোয়ার হোসেন। তিন বছর আগে মায়ের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
স্বজনদের ভাষ্য, রাত তিনটার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ায় জড়ান আনোয়ার। তাঁদের ঝগড়া থামাতে এগিয়ে যান বাবা আব্দুস সামাদ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবার দিকে তেড়ে যান আনোয়ার। ভয়ে আব্দুস সামাদ দৌড়ে পাশের বাড়ির বাসিন্দা মো. শহীদের বাড়িতে আশ্রয় নিতে যান। কিন্তু সেখানেও গিয়ে বাবার ওপর হামলা চালান আনোয়ার। লাঠি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাতে গুরুতর আহত হন আব্দুস সামাদ। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যান আব্দুস ছামাদ।
স্বজনেরা আরো জানান, আনোয়ার কোনো কাজ করতেন না। তাঁকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু দেড় মাসের মধ্যেই সেখান থেকে দেশে ফিরে আসেন তিনি। তার তিন সন্তান আছে। সন্তানদের লালনপালন করতেন নিহত আব্দুস সামাদ।
স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন বলেন, 'আব্দুস সামাদ দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা দিয়ে একপর্যায়ে আনোয়ার নেশায় জড়িয়ে পড়েন। দেশে এসে অনেক চেষ্টা করেছেন ছেলেটাকে স্বাভাবিক জীবনে আনতে। কিন্তু অবশেষে সেই ছেলের হাতেই তাকে জীবন দিতে হলো।'
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা: বিজন মালাকার বলেন,' রাতে ওই নামে এমন কোনো রোগী হাসপাতালে আনা হয়নি। আসলে অবশ্যই পুলিশকে জানানো হতো।'
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম যায়যায়দিনকে বলেন,'খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে আনোয়ার হোসেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। এ ঘটনায় মামলা হবে।'