প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৯ পিএম
ছবি: যাযাদিগোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় তরল পদার্থ পান করে অসুস্থ হওয়ার পর দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন কৃষ্ণকান্ত বাড়ৈ (৩৫) ও মনোতোষ হালদার (৩৮)। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পর পৃথক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অনিল বাড়ৈ নামে আরও এক যুবক ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া আরেকজন নিখোজ রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে কোটালীপাড়া উপজেলার দিঘলীয়া গ্রামে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ডেকোরেটরের কাজ করতে গিয়ে কয়েকজন তরুণ মদ্যপান করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয় তাদের।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মনোতোষ হালদার ঢাকার পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার মারা যান। আর কৃষ্ণকান্ত বাড়ৈ রোববার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
নিহত কৃষ্ণকান্ত বাড়ৈ কোটালীপাড়া উপজেলার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের দিঘলীয়া গ্রামের গেদু বাড়ৈর ছেলে। মনোতোষ হালদার একই গ্রামের মহেন্দ্র হালদারের ছেলে।
কৃষ্ণকান্ত বাড়ৈর ভাই বিষ্ণু বাড়ৈ বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে তার ভাইসহ তিনজন পাশের খাগবাড়ি গ্রামে ডেকোরেটরের কাজ করতে গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন মিলে মদ্যপান করার কয়েক ঘণ্টা পর তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে কৃষ্ণকান্তকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় তারা থানায় কোনো অভিযোগ করেননি।
মনোতোষ হালদারের ভাই উত্তম হালদার বলেন, পূজার ডেকোরেশনের কাজ করতে গিয়ে তার ভাই পানি জাতীয় কিছু পান করেছিলেন। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার তাঁর মৃত্যু হয়।
রাধাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভীম চরণ বাগচী বলেন, দুর্গাপূজার সময় সমবয়সী চার-পাচজন তরুণ তরল জাতীয় কিছু পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পর দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আরও একজন নিখোজ আছেন বলে তিনি শুনেছেন, তবে তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রিয়াদ মাহামুদ বলেন, ঘটনাটি পুলিশকে কেউ জানায়নি। তারাও এ বিষয়ে অবগত নন। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।