ছবি: সংগৃহীতবাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে জাপানের সাবেক প্রধান মন্ত্রী ও জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসোর ধারাবাহিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে তার সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধান মন্ত্রী।
আজ জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল তিন টায় টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারো আসোর নেতৃত্বে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। সাক্ষাতে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জাপানের সাবেক প্রধান মন্ত্রী, উপ প্রধান মন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকালে তারো আসো বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এ জন্য তিনি তারো আসোকে ধন্যবাদ জানান।
সাক্ষাতে ২০০৬ সালে বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে নিজের জাপান সফরের স্মৃতিচারণ করেন তারেক রহমান। ওই সফরে তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাতের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। অন্যদিকে, তারো আসো বাংলাদেশের সাবেক প্রধান মন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতি স্মরণ করেন।
আলোচনায় বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তারো আসো। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হচ্ছে। এ কারণে জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে অত্যন্ত আগ্রহী।
জবাবে প্রধান মন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে তার সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশ আরও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় কিছু আইনি পরিবর্তনও আনা হচ্ছে। শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের বিষয়েও তিনি প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরের প্রেক্ষাপটে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর জোরদারে তারো আসোর সহযোগিতা চান প্রধান মন্ত্রী। পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
সাক্ষাতে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধান মন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধান মন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ প্রধান মন্ত্রীর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
জাপানের পক্ষে তারো আসোর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দেশটির সাবেক মন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ইয়াসুতোশি নিশিমুরা, ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশি এবং জাপানের সংসদের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা।