ছবি: বিবিসি বাংলাকওমি মাদ্রাসায় শিশুদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের একের পর এক অভিযোগ সামনে এসেছে। মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ভুক্তভোগীদের অনেকেই ভয়, লজ্জা ও সামাজিক চাপের কারণে দীর্ঘদিন মুখ খুলতে পারেননি। অভিযোগ তদন্ত, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নজরদারির ঘাটতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকার মাদ্রাসার বিরুদ্ধে প্রায় দেড় ডজন যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সামনে এসেছে। এর মধ্যে ছেলে শিশুদের ভুক্তভোগী হওয়ার ঘটনা বেশি আলোচনায় এসেছে। গত এক সপ্তাহে গাজীপুর, পাবনা ও লক্ষ্মীপুরের তিনটি মাদ্রাসায় যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এসব ঘটনার দুটিতে ভুক্তভোগী ছেলে শিশু।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে অন্তত ১৩টি ছেলে শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, এসব শিশুর প্রায় সবাই কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার কওমি মাদ্রাসা রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ। সাইদুর রহমানের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারি নজরদারি যথেষ্ট নয়।
ঢাকার যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা আক্কাস আলী (ছদ্মনাম) পেশায় ফল বিক্রেতা। তার একমাত্র ছেলের বয়স প্রায় চার বছর। আগে ছেলেকে স্থানীয় একটি কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে হাফেজ বানানোর পরিকল্পনা ছিল তাঁর। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মাদ্রাসায় যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসার পর সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করছেন তিনি।
বিবিসি বাংলাকে আক্কাস আলী বলেন, একমাত্র ছেলেকে হাফেজ বানানোর ইচ্ছা ছিল। কিন্তু প্রতিদিন যেসব অভিযোগ শুনছেন ও দেখছেন, তাতে মাদ্রাসায় পড়ানোর আগ্রহ কমে গেছে। ছেলের সঙ্গে এমন কিছু ঘটুক, তা তিনি চান না।
বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে আগে শিক্ষার্থীদের শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ বেশি আলোচনায় আসত। সাম্প্রতিক সময়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগও সামনে আসছে। তবে সাবেক শিক্ষার্থী ও মানবাধিকারকর্মীদের মতে, সমস্যাটি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে ভয়, সামাজিক চাপ ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষার অজুহাতে অনেক ঘটনা প্রকাশ্যে আসেনি।
কওমি মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষার্থী সাজেদুল ইসলাম বলেন, যৌন নির্যাতনের ঘটনা আগেও ছিল। তবে এমন পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল যে, এসব নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার সুযোগ কম ছিল।
ফিরোজ করিম (ছদ্মনাম) নামের আরেক সাবেক শিক্ষার্থী বিবিসি বাংলাকে জানান, প্রায় দুই দশক আগে সাত বছর বয়সে তাকে একটি কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি করানো হয়। পরিবারের ইচ্ছা ছিল তাঁকে হাফেজ বানানোর। কিন্তু ভর্তি হওয়ার কিছুদিন পরই তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন।
ফিরোজের ভাষ্য অনুযায়ী, একদিন মাদ্রাসার ছাদে খাদেমদের ব্যবহৃত একটি কক্ষে তিন শিক্ষার্থী তার দুই হাত বেধে নির্যাতন করেন। ঘটনার পর তিনি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছিলেন না। পরে পরিবার তাকে অন্য একটি কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি করায়। সেখানেও এক শিক্ষকের হাতে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
ফিরোজ জানান, ওই শিক্ষক তাকে কোমল পানীয়ের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে খাইয়েছিলেন। এরপর কী ঘটেছিল, তা তার মনে নেই। পরে জ্ঞান ফেরার পর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান বলে জানান তিনি। পরপর দুটি প্রতিষ্ঠানে নির্যাতনের অভিজ্ঞতা এখনো তাকে মানসিকভাবে প্রভাবিত করে বলে জানান ফিরোজ। পরিবারের কাছেও এসব কথা বলতে পারেননি তিনি।
তার ভাষ্য, মাদ্রাসায় পড়ার সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটার কথা শুনতেন। বড় শিক্ষার্থীদের হাতে ছোটদের নির্যাতিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ ছিল। কিন্তু লজ্জা, ভয় ও চাপের কারণে এসব ঘটনা প্রকাশ করা কঠিন ছিল।
যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের অনেকে সামাজিক সম্মান ও পরিবারের প্রতিক্রিয়ার ভয়ে মুখ খোলেন না। ফলে কওমি মাদ্রাসায় সমস্যাটির প্রকৃত ব্যাপ্তি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া কঠিন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো সামনে আসার পর কওমি মাদ্রাসার সাবেক দুই শিক্ষার্থী ‘আওয়াজডটবিডি’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করেছেন। সেখানে পরিচয় গোপন রেখে নির্যাতনের অভিজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ রয়েছে।
ওয়েবসাইটটির তথ্য অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত গত কয়েক সপ্তাহে অন্তত ২২৭ জন তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৯৩ জন ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন। ওয়েবসাইটের হিসাবে, তাঁদের প্রায় ৪৭ শতাংশ কওমি মাদ্রাসায় যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন।
ওয়েবসাইটটির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন এবং কওমি মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষার্থী সালাউদ্দীন জাহাঙ্গীর বলেন, আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাঠামো, পরিবেশ ও তদারকির ঘাটতি শিশুদের নিরাপত্তার ঝুকি বাড়াতে পারে। তার মতে, তুলনামূলক কম বয়সী শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে হিফজ বিভাগের শিশুরা, বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিরা পরবর্তী সময়ে নিজেরাও নির্যাতনকারী হয়ে উঠতে পারেন। তাই ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে না দেখে প্রতিরোধ, নজরদারি ও জবাবদিহির ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
মানবাধিকারকর্মী সাইদুর রহমানের মতে, যৌন নির্যাতনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হওয়া এ ধরনের ঘটনা বন্ধ না হওয়ার অন্যতম কারণ। তার ভাষ্য, অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়া বা অনুদান বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
সালাউদ্দীন জাহাঙ্গীর বলেন, কোনো কোনো ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক বা শিক্ষার্থীকে পুলিশে না দিয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় কিংবা নামমাত্র শাস্তি দেওয়া হয়। তার মতে, অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার চর্চা থাকলে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সহায়তা হতে পারে।
অভিভাবকদের সচেতনতার ঘাটতিকেও একটি কারণ হিসেবে দেখছেন সাইদুর রহমান। তার মতে, অনেক অভিভাবক আর্থসামাজিক সীমাবদ্ধতা ও শিক্ষার সুযোগের অভাবে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট সচেতন হতে পারেন না। ফলে অভিযোগ জানানো বা প্রতিকার চাওয়ার ক্ষেত্রেও বাধার মুখে পড়েন।
কওমি মাদ্রাসাগুলোর পরিচালনা ও শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারি নজরদারি কতটা কার্যকর, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তুলনায় কওমি ধারার মাদ্রাসাগুলোর ওপর সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ সীমিত। যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত, প্রতিরোধ এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে অভিন্ন ও কার্যকর নীতিমালার ঘাটতির কথাও জানিয়েছেন তারা।
ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। রোববার নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, ধর্মীয় শিক্ষাদানকারী প্রতিষ্ঠান হওয়া মানেই জবাবদিহি, সুশাসন ও মানোন্নয়নের ঊর্ধ্বে থাকা নয়। বরং এসব প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, নৈতিকতা ও জবাবদিহি আরও দৃশ্যমান হওয়া উচিত।আবাসিক মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর নীতিমালা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব সাজেদুর রহমানের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের ঘটনায় কোনো শিথিলতা বা আপস করা উচিত নয়। দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোকে নিজ নিজ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
কওমি মাদ্রাসার অন্যতম বড় শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সহসভাপতি মুসলেহ উদ্দীন রাজু বিবিসি বাংলাকে বলেন, তাদের অধীনে পরিচালিত মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শিশুদের শারীরিক ও যৌন নির্যাতন বন্ধে মাদ্রাসাগুলোতে ছাত্র সুরক্ষা কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে দেশে কওমি মাদ্রাসার জন্য একক কোনো বোর্ড নেই। অন্তত ছয়টি বোর্ডের অধীনে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়। বোর্ডগুলো মূলত শিক্ষা কার্যক্রম, পাঠ্যক্রম ও পরীক্ষা তদারকি করে। অনিয়ম বা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে তাদের নজরদারি ও জনবলের সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। বোর্ডগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং কওমি মাদ্রাসার পরীক্ষা ও সনদ প্রদানের কাজ পরিচালনার জন্য রয়েছে ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’।
মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি বন্ধে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি নির্দেশনা জারি করেছে। পাশাপাশি প্রতিটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি গঠন বা পুনর্গঠন করে সক্রিয় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে নির্দেশনাগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং তা অমান্য করলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে স্পষ্টতা নেই। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সীমা লঙ্ঘনকারী শিক্ষক বা শিক্ষিকাকে শরিয়াহ ও বিধি অনুযায়ী জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
মাদ্রাসাতুল আতহার আল ইসলামিয়া ঢাকার অধ্যক্ষ আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, যেগুলোর কিছু বোর্ডের আওতায় নেই। এসব প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা মাদ্রাসাগুলো নিয়ে আলোচনা করতে শনিবার জরুরি বৈঠক করেছে আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। আজিজুল হক ইসলামাবাদীর ভাষ্য, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সারাদেশে প্রতিষ্ঠানটির কমিটিগুলো বোর্ডের বাইরে থাকা মাদ্রাসাগুলোর বিষয়ে খোঁজ নেবে এবং সদস্য হওয়ার যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেবে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, সারাদেশে মাদ্রাসাগুলোর ওপর নিয়মিত নজরদারি চালানোর মতো জনবল ও সক্ষমতা আল-হাইআতুল উলয়ার নেই। এ ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নের ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাকর’ বলে মন্তব্য করেছেন। শনিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযোগ গ্রহণ, নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনগত ব্যবস্থা এবং আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর এখন গুরুত্ব দিচ্ছেন মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, ধর্মীয় শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি শিশুদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠান, বোর্ড ও সরকারের জবাবদিহি কার্যকর হওয়া প্রয়োজন।
তথ্য সূত্র: বিবিসি বাংলা