লিখিত আপত্তির পরও বসতভিটায় বিদ্যুতের খুঁটি, দুর্ঘটনার শঙ্কা

নেত্রকোণা প্রতিনিধি

সারাদেশ

বসতভিটার উঠানে বিদ্যুতের খুঁটি, পাশেই ট্রান্সফরমার। বাড়ির ওপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন না নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে লিখিত আবেদন করেও প্রতিকার পাননি

2026-10-26T17:39:54+06:00
2026-10-26T17:39:54+06:00
সোমবার ● ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১০ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
লিখিত আপত্তির পরও বসতভিটায় বিদ্যুতের খুঁটি, দুর্ঘটনার শঙ্কা
নেত্রকোণা প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৯ পিএম  
বসতভিটার উঠানে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপনের প্রতিবাদ ও তা অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেন শুনই গ্রামের বাসিন্দারা।
বসতভিটার উঠানে বিদ্যুতের খুঁটি, পাশেই ট্রান্সফরমার। বাড়ির ওপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন না নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে লিখিত আবেদন করেও প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেছেন নেত্রকোণার কলমাকান্দার বাসিন্দা মো. টুটন মিয়া। তাঁর দাবি, বিকল্প পথে লাইন নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তাঁর বাড়ির উঠানে খুঁটি স্থাপন করে সেচের লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। এতে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খুঁটি অপসারণের দাবিতে এবার এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে মানববন্ধন করেছেন তিনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনই গ্রামে টুটন মিয়ার বাড়ির সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে টুটন মিয়াসহ গ্রামের অর্ধশতাধিক মানুষ অংশ নেন।

টুটন মিয়ার অভিযোগ, বাড়ির ওপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন নির্মাণ না করার অনুরোধ জানিয়ে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর নেত্রকোনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কলমাকান্দা জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপকের (ডিজিএম) কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আবেদনের পরও তাঁর বসতভিটার উঠানে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করে সেচের লাইন নির্মাণ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের আলাল উদ্দিন সেচের লাইন নির্মাণের জন্য আবেদন করেছিলেন। টুটন মিয়ার দাবি, তাঁর বাড়ি এড়িয়ে সরাসরি বিলের দিকে লাইন নেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু লাইন বাঁকিয়ে তাঁর বাড়ির উঠানে খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। খুঁটি স্থাপনের সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না; কাজের প্রয়োজনে বাইরে ছিলেন।

টুটন মিয়া বলেন, ‘যে খুঁটিতে ট্রান্সফরমার বসানো হয়েছে, সেটি আমার বাড়ির পাশে। সোজা লাইনে বিলের দিকে নিয়ে গেলে আমার উঠানে খুঁটি বসানোর প্রয়োজন হতো না। বিষয়টি জানিয়ে আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। এতে আমার পরিবারের সদস্যরা দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছেন। দ্রুত খুঁটিটি সরিয়ে অন্যত্র স্থাপন করা হোক।’

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে একই গ্রামের বাসিন্দা মো. খোদানেওয়াজ বিদ্যুতের তার থেকে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০০২ সালে তাঁর বাড়ির ওপর দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটি নেওয়া হয়েছিল। ২০০৪ সালে হঠাৎ বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে তাঁর ওপর পড়লে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন। এতে তাঁর এক হাতের সব আঙুল হারান এবং শরীরের অধিকাংশ জায়গা পুড়ে যায়। প্রাণে বাঁচলেও এখনো পঙ্গুত্ব নিয়ে জীবন কাটাতে হচ্ছে তাঁকে।

খোদানেওয়াজ বলেন, ‘আমার মতো আর কারও জীবন যেন দুর্বিষহ না হয়। তাই দ্রুত খুঁটিটি অপসারণের দাবি জানাচ্ছি।’

গ্রামের আরেক বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, সরাসরি লাইন নেওয়া হলে টুটন মিয়ার বাড়ি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু লাইন বাঁকিয়ে উঠানে খুঁটি স্থাপন করায় তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত খুঁটিটি সরানো প্রয়োজন।

শুধু বসতভিটার উঠানে খুঁটি স্থাপন নয়, শুনই গ্রামে সেচের বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েও একাধিক অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের লোকজনের যোগসাজশে কয়েকটি অবৈধ সেচ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব সংযোগে বসতবাড়ি থেকে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ মিটার বিদ্যুতের তার বাঁশের খুঁটির ওপর দিয়ে বিলের মাঝখানে নেওয়া হয়েছে। সেখানে সেচপাম্প চালিয়ে জমিতে পানি দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, এভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ ছাড়া সেচের কাজে আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন তাঁরা।

তবে সেচলাইনের মালিক আলাল উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি যথাযথ নিয়মে সেচলাইনের জন্য আবেদন করেছি। বিদ্যুৎ অফিস তাদের নিয়ম অনুযায়ী লাইন নির্মাণ করেছে। এখানে আমার কোনো হাত নেই। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’

অভিযোগের বিষয়ে কলমাকান্দা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের ডিজিএম শাহ আলম বলেন, ‘এই লাইনের আবেদন অনেক আগের। আমি কিছুদিন আগে এখানে যোগ দিয়েছি। নির্মাণের সময় জানালে বা বাধা দিলে অন্যদিকে ঘুরিয়ে লাইন নেওয়া যেত। মানুষের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করেই আমরা কাজ করি। এখন লাইন নির্মাণ হয়ে গেছে। কয়েক দিন আগে ওই সংযোগের খুঁটির তার চুরি হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় জানানো হয়েছে। তারপরও বিষয়টি দেখে কতটুকু কী করা যায়, তা বিবেচনা করব।’

বসতবাড়ি থেকে অবৈধভাবে তার টেনে সেচ সংযোগ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে কিছু ঝামেলা রয়েছে। তার চুরির বিষয়েও অভিযোগ আছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।



  বিষয়:   নেত্রকোণা  মানববন্ধন  লিখিত আপত্তি 


সারাদেশ- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি, লাভ রোড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত