নগর পরিকল্পনাবিদ মোঃ নজরুল ইসলাম নগর পরিকল্পনাবিদ মোঃ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কিত তদন্তে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহারের যে অভিযোগ উঠেছিল, এতে আর কোনো কার্যকর প্রমাণ মেলেনি। বরং, তদন্তে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং নগর পরিকল্পনাবিদ হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আইন অনুযায়ী সঠিক ছিল বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এছাড়া নগর পরিকল্পনাবিদ নজরুল ইসলামকে ঘিরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভুঁইফোড় কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টালে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচার করেছে বলে জানা যায়।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন নজরুল ইসলাম। আর এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী ও কুচক্রী মহল তাঁর পেশাগত সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে সাংবাদিকদের কাছে ছড়িয়ে দিচ্ছে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও অসম্পূর্ণ তথ্য।
এই বিষয়ে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের স্মারক নং-৪৬.০০.০০০০.০৭০.১৯.০০৬.২২-৮২৬, তারিখ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ এবং অপর একটি স্মারক নং-৪৬.০০.০০০০.০৭০.১৯.০০৬.২২-৫৩৯, তারিখ: ০৮ জুলাই ২০২৫-এর উল্লেখ ছিল, যা তদন্তের সূত্রপাত ঘটায়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান ভাণ্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা এবং এই তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। কর্মকর্তার এক প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রেরিত নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে মোঃ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করা হয়। তদন্তে অভিযোগের বিভিন্ন দিক, ব্যক্তিগত নথি, নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র, শিক্ষাগত সনদ এবং অভিজ্ঞতা সনদ যাচাই করা হয়েছে। এছাড়াও নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল তার অভিজ্ঞতা সনদ। এ বিষয়ে সাভার পৌরসভার প্রশাসক ও সনদ প্রদানকারী সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র জনাব আলহাজ মোঃ রেজাউত উল্লাহর কাছে তথ্য যাচাই করা হয়। এ সংক্রান্ত সাভার পৌরসভার পত্রের স্মারক নং-৪৬.২০৭.০০৯.১৭.০২.২০২৫-২৩৭, তারিখ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে সাভার পৌরসভার প্রশাসক এবং সাবেক মেয়র লিখিতভাবে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জানান যে, মোঃ নজরুল ইসলাম সাভার পৌরসভায় সহকারী নগর পরিকল্পনাবিদ হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত ছিলেন। তিনি জানান, তার জন্য ২৫ সেপ্টেম্বর ২০০৯ তারিখে ইস্যুকৃত অভিজ্ঞতা সনদ সঠিক।
এছাড়াও নজরুল ইসলামের অভিজ্ঞতা সনদ জাল বা ভিত্তিহীন এমন কোনো অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। ফলে, অভিজ্ঞতা সনদটি নিয়ে যে প্রশ্ন তুলা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তদন্ত প্রতিবেদনে নজরুল ইসলামের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সেখানে দেখা যায়, চার বছর বা আট সেমিস্টার মেয়াদি Bachelor of Urban and Regional Planning (BURP) ডিগ্রি প্রাপ্তির প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট বিধি ও সরকারি গেজেটের আলোকে নগর পরিকল্পনাবিদ পদে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পূর্ণরূপে বিধিসম্মত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সরকারি গেজেট ও আদালতের রায়ের আলোকে নজরুল ইসলামের নগর পরিকল্পনাবিদ পদে নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে এবং তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অভিযোগের একটি অংশ বেনামি বা ঠিকানাবিহীন সূত্র থেকে এসেছে। সরকারি বিধান অনুযায়ী বেনামি বা ঠিকানাবিহীন অভিযোগের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রমাণ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ সীমিত। তদন্ত প্রতিবেদনে এ বিষয়ে প্রচলিত সরকারি বিধান ও সচিবালয় নির্দেশনার কথাও এ বিষয়ে যে কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা হলো, সিস্টেম এনালিস্ট হিসেবে নজরুল ইসলামের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের বিষয়ে অভিযোগটি ভিত্তিহিীন। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বাস্তবতা প্রমাণিত হয়নি।
তদন্তে দেখা যায়, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সিস্টেম এনালিস্টের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের বিষয়টি উঠে এসেছিল। তবে তদন্ত চলাকালীন, প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি ওই পদে নিয়োগের জন্য নিজে আবেদন করেননি। বরং, কর্তৃপক্ষই তাকে ওই পদে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী, তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ফলে প্রতিয়মান হয় যে, তার দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি ব্যক্তিগত কোনো উদ্যোগ নয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে নজরুল ইসলামের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও নিয়োগসংক্রান্ত তথ্যাদি মূল্যায়ন করে দেখা গেছে যে, তার পদোন্নতির কার্যক্রম বিধি অনুযায়ী হয়েছে ও কর্তৃপক্ষ তার পক্ষে মতামত দিয়েছেন । ফলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগের কারণে প্রশ্নের মুখে থাকা নগর পরিকল্পনাবিদ মোঃ নজরুল ইসলামের ক্ষেত্রে সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক নথি হিসেবে সামনে এসেছে। অভিযোগের পরিবর্তে তার যোগ্যতা ও নিয়োগের বৈধতাই তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।