প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৯ পিএম
ছবি: যাযাদিনোয়াখালীর সোনাইমুড়ী পৌর বাজারে সড়ক দখল ও আদালতে মামলা দায়েরের কারণে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরবাসী, পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির কাজ বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। দ্রুত অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে নির্মাণকাজ চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অর্থায়নে সোনাইমুড়ী বাজারের মধ্য দিয়ে সাবেক স্প্রিং পোল থেকে পার্শ্ববর্তী সেনবাগ উপজেলার রাস্তার মাথা পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মিজানুর রহমান কার্যাদেশ পেয়ে ২০২৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর নির্মাণকাজ শুরু করে। প্রকল্প অনুযায়ী সড়কের প্রস্থ ২৮ ফুট নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাজারের পোস্ট অফিস-সংলগ্ন অংশে প্রস্থ রয়েছে মাত্র ২০ ফুট। স্থানীয় এক দোকানদারের দায়ের করা মামলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের নির্মাণকাজ আটকে আছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সড়কের জায়গা দখল করে দোকানপাট গড়ে ওঠায় নির্মাণকাজ ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত উপজেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনের উদ্যোগে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে কাজ শুরু করা প্রয়োজন। নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন।
নোয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী ও সড়কটির তদারকি কর্মকর্তা শফিকুর রহমান বলেন, সোনাইমুড়ী বাজারের দক্ষিণ পাশে প্রায় ১৪০ মিটার সড়কের জায়গা দখলমুক্ত করা যায়নি। দোকানদারেরা জেলা পরিষদ থেকে জায়গা লিজ নেওয়ার দাবি করছেন। স্থানীয় প্রশাসন দখলমুক্ত করতে পারলে সড়কের নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মিজানুর রহমানের ব্যবস্থাপক মোরশেদ আলম বলেন, সোনাইমুড়ী বাজারে প্রায় শতাধিক দোকান উচ্ছেদ না হওয়ায় নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। পৌর প্রশাসন দখলদারদের উচ্ছেদ না করলে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে না। কাজ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন রড ও সিমেন্ট চুরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক নাসরিন আক্তার বলেন, সড়কের নির্মাণকাজ শুরুর পর স্থানীয় এক দোকানদার আদালতে মামলা করেছেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে সড়কের নির্মাণকাজ চালিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন বলেন, সড়কে অবৈধ দখল থাকায় নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।