প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৪ পিএম
ছবি-যাযাদি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নোংরা পরিবেশে বেকারি পণ্য সংরক্ষণ, মিষ্টির সিরায় ময়লা ও পোকার অংশ বিশেষ পাওয়া এবং উৎপাদিত পণ্যের বিএসটিআই লাইসেন্স দেখাতে না পারাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে “ পিওর সুইটমিট অ্যান্ড বেকারি” নামে একটি কারখানাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত ভট্টাচার্য সদর উপজেলার নাটাই ইউনিয়নের বটতলী বাজারে অবস্থিত পিওর সুইটমিট অ্যান্ড বেকারি কারখানায় অভিযান পরিচালানা করে এই জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে।
অভিযানে কারখানাটিতে খাদ্যপণ্য তৈরি ও সংরক্ষণে একাধিক অনিয়ম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের চিত্র উঠে আসে।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কারখানাটিতে খোলা অবস্থায় নোংরা পরিবেশে বেকারি পণ্য সংরক্ষণ করতে দেখা যায়। চিনির পাউডার রাখা হয়েছিল নোংরা, অপরিষ্কার ও স্যাঁতসেঁতে বক্সে। এ ছাড়া খোলা, ঢাকনাবিহীন ও লেবেলবিহীন অবস্থায় সংরক্ষণ করা হচ্ছিল কুকিজ তৈরির খামির।
কারখানাটিতে আরও দেখা যায়, মিষ্টির ছানা নোংরা দেয়ালের পাশে পানি ঝরানোর জন্য রাখা হয়েছে। কেক তৈরির কাঁচামাল ও কেকের ছাঁটাই করা অংশও সংরক্ষণ করা হচ্ছিল লেবেল ছাড়া। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত সিরার মধ্যে ময়লা ও পোকার অংশ বিশেষ পাওয়া যায়। এসব অনিয়মের পাশাপাশি কারখানাটিতে ব্যবহৃত কাঁচামালের ক্রয়চালান এবং উৎপাদিত সব পণ্যের বিএসটিআই লাইসেন্স দেখাতেও ব্যর্থ হন সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. আসিফুর রহমান জানান, অভিযানে খাদ্যপণ্য তৈরি ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একাধিক অসংগতি পাওয়া গেছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদন যথাযথভাবে সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অভিযানে পাওয়া অসংগতিগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিকের দোষ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করেন এবং তা আদায় করেন। অভিযানে নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোঃ আসিফুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অন্যান্য সহায়ক কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টদের দেশের প্রচলিত সব আইন ও বিধিবিধান মেনে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহ এবং ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়।