বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো সংগ্রাম, আন্দোলন, আদর্শ ও অঙ্গীকারের পথ অনুসরণ করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি যে ‘অপরাজেয় পতাকা’ বিএনপির নেতা-কর্মীদের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন, তা বহন করে যেতে হবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিল এজিবি কলোনিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ‘গণতন্ত্রের মা’, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও আপসহীন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম এবং মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের ভুলে গেলে চলবে না—আমাদের শোকে, আমাদের সংকটে, আমাদের বেদনায় যে মানুষটি হিমালয় পর্বতের মতো অখণ্ড ও ভারী প্রেরণার উৎসস্থল ছিলেন, তিনি দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া।
বিএনপির এই নেতা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এ দেশের গণতন্ত্রের মূর্তিমান প্রতীক, আদর্শের প্রতীক, চেতনার প্রতীক এবং রাজনীতিতে উন্নত নৈতিকতার প্রতীক। তাঁকে যত বেশি স্মরণ করা হবে এবং তাঁর জীবনাচরণ ও জীবনলক্ষ্য যত বেশি চর্চা করা হবে, ততই নিজেদের মধ্যে শক্তি ও প্রেরণা পাওয়া যাবে।
বেগম খালেদা জিয়ার ওপর আওয়ামী লীগ সরকারের নিপীড়নের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, শত নিপীড়ন-নির্যাতন ও অত্যাচারের মধ্যেও তিনি তাঁর আদর্শ ও অঙ্গীকার থেকে বিচ্যুত হননি। তাঁকে রাজনৈতিক লক্ষ্য থেকে বিন্দুমাত্র সরানো সম্ভব হয়নি।
খালেদা জিয়াকে যে কারাগারে রাখা হয়েছিল, সেটির সমালোচনা করে রিজভী বলেন, পরিত্যক্ত ওই কারাগারে তাঁকে বন্দী রেখে ইচ্ছাকৃতভাবে নিপীড়ন করা হয়েছে। সেখানে তাঁকে উন্নত চিকিৎসাও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী রাখার উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করা এবং যাতে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিজের একটি রাজ্যে পরিণত করতে চেয়েছিলেন।
দেশের ব্যাংক লুটপাট ও অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে রিজভী বলেন, কোটি কোটি টাকা, ২৮ লাখ কোটি টাকা ১৭ বছরে সে পাচার করেছে।’ এর প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন ধ্বংস করা হয়েছিল এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদী নেত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী করে রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
রিজভী বলেন, বেগম জিয়ার ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন সারা দেশের জনগণের মধ্যে যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ তৈরি করেছিল, তারই পরিণতি আমরা দেখেছি জুলাইয়ের সেই মহাবিপ্লব, সেই মহাউত্থানের মধ্য দিয়ে।
তিনি বলেন, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করেছে। তাঁর ভাষায়, ‘সে পালিয়ে গেছে। আর সেই দিনই মুক্তি হয়েছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার।’
আগামী দিনের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, তাঁর সুযোগ্য পুত্র তারেক রহমান সেই পতাকা ধারণ করেই এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দরিদ্র পরিবারের নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন রিজভী।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনুর সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো আবদুস সালাম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।