প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৮ পিএম
যাযাদি ছবি চিকিৎসক মহাসংকটে একশ' শয্যার ঝালকাঠি আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে শতশত রোগী চিকিৎসা নিতে এসে ডাক্তার না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীরাও নিয়মিত ডাক্তারের দেখা পাচ্ছেন না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধান হচ্ছে বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ।
চিকিৎসক মহাসংকটে ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল নিজেই এখন রোগী। আধুনিক সদর হাসপাতালটি ২০০০ সালে ৫০ শয্যা থেকে একশ শয্যায় উন্নিত করা হলেও দীর্ঘ দুই যুগেও বাড়ানো হয়নি জনবল। ৫০ শয্যার হাসপাতালের জনবলও নেই, ফলে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। এ হাসপাতালে মেডিসিন ও শিশু বিশেষজ্ঞসহ সিনিয়র কনসালটেন্ট ১০টি পদ থাকলেও এর ৯টি পদই শূন্য রয়েছে। একশ শয্যায় অনুমোদিত ৬৬ জন চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৩ জন। কার্ডিওলজি, চক্ষু, শিশু, গাইনি, রেডিওলজি, অ্যানেসথেসিয়া, সার্জারি ও অর্থোপেডিক বিভাগের ৫৩টি পদই শূন্য রয়েছে। এরমধ্যে ২১টি বিষয়ের নেই কোনো চিকিৎসক। ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ৮টি পদের মধ্যে ৬টিই শূন্য । সহকারী সার্জন ২০টি পদের সবই শূন্য।
যার ফলে প্রতিদিন এখানে ৫ শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসলেও ডাক্তার না থাকায় অনেকেই ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান। চিকিৎসা সেবা নিতে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। আধুনিক যন্ত্রপাতি, চিকিৎসক ও শয্যা সংকটে সাধারণ রোগের চিকিৎসায়ও যেতে হচ্ছে বিভাগীয় শহরে কিংবা প্রাইভেট কোন প্রতিষ্ঠানে। একশ' শয্যার হাসপাতালে গড়ে রোগী থাকে দেড়শ' এরও বেশি। যাদের অনেকেই সপ্তাহে এককারও ডাক্তারের সাক্ষাৎ পান না। চিকিৎসকের তীব্র সংকটের কারণে হাসপাতালটিতে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মরত ডাক্তাররা। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ আল্ট্রাসনোগ্রাম ও এক্সরে সেবা সঠিক মতো মিলছে না। রোগীর বিভিন্ন পরীক্ষার বেশির ভাগ করতে হয় বাহির থেকে। হাসপাতালে নোংরা পরিবেশ, কর্তৃপক্ষের নেই নজরদারি।
সদর হাসপাতালের কনসালটেন্ট (মেডিসিন) ডা. আবুয়াল হাসান চিকিৎসক মহাসংকটের কারণে সদর হাসপাতালে রোগীদের সেবা দিতে নানা সমস্যার কথা জানান।
তত্ত্বাবধায়ক ডা.মাসুম ইফতেখার এসব সমস্যার কথা অকপটে স্বীকার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, চিকিৎসক নিয়োগ পেলেই চিকিৎসা সেবা আরো উন্নত হবে। সীমিত জনবল দিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের সেবা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।