রোপণ করা ধানখেতে ট্রাক্টর চালিয়ে ফসল নষ্ট করার পর সেখানে ফের ধান রোপণ করা হয়। নেত্রকোণার বারহাট্টায় কৃষকের রোপণ করা ধানখেতে ট্রাক্টর চালিয়ে ফসল নষ্ট করে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জমির মালিক মোছা. সাবিনা রহমান বারহাট্টা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের সোনাউল্লারচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সোনাউল্লারচর এলাকায় খতিয়ান নম্বর ১৩১২, এসএ দাগ নম্বর ২২৯৫ ও বিআরএস দাগ নম্বর ৪৫০৯-এর ১৬ শতাংশ জমি ২০২২ সালে সাবকবলা দলিলমূলে কিনে ভোগদখল করে আসছেন সাবিনা রহমান। তিনি ঢাকায় থাকায় তাঁর বোন ও ভাগিনা ওই জমিতে চাষাবাদ করেন। বর্তমানে জমিটিতে ধান রোপণ করা হয়েছে।
সাবিনার অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকালে রহিছ মিয়া (৬৫), তাঁর ছেলে জিবন মিয়া (৩৩), সুমন মিয়া (২৮), স্ত্রী রহিমা আক্তার (৬০) ও ছেলে সাজ্জাদ মিয়া (২২) দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওই জমিতে যান। পরে জমির প্রায় অর্ধেক অংশে রোপণ করা ধানের ওপর ট্রাক্টর চালিয়ে হালচাষ করা হয়। এতে রোপণ করা ধান নষ্ট হয়ে যায়। পরে সেখানে নতুন করে ধান রোপণ করে জমিটি দখলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় বাধা দিতে গেলে তাঁকে ও তাঁর স্বজনদের হত্যাসহ জখমের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় গ্রাম কমিটির সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, “সাবিনা সঠিক কাগজপত্রের ভিত্তিতেই জমিটি কিনেছেন এবং সেখানে ধানও রোপণ করেছেন। রহিছ মিয়া তাঁর স্ত্রী রহিমার নামে সম্প্রতি একটি খারিজ এনে জমিটি দখলের চেষ্টা করছিলেন। মাসখানেক আগে স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, যেহেতু সাবিনা ধান রোপণ করেছেন, তিনিই ফসল নেবেন। জমি নিয়ে মামলা থাকলে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে রোপণ করা ধানখেতে ট্রাক্টর চালিয়ে ফসল নষ্ট করা হয়েছে।”
সিংধা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল চৌধুরী বলেন, জমির ফসল নষ্ট করে রহিছ মিয়া ও তাঁর লোকজন অপরাধ করেছেন। তাঁর দাবি, সাবিনার জমির কাগজপত্র সঠিক। তবে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের তহশিলদার রহিছ মিয়ার স্ত্রী রহিমার নামে একটি খারিজ করে দেওয়ায় বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ফসল নষ্টের ঘটনার বিচার দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রহিমা আক্তার বলেন, “খারিজের মাধ্যমে এই জমির মালিক আমি। তাই আজকে আবার ওই জমিতে ধান রোপণ করেছি। এর আগে জমি নিয়ে যে সালিশ হয়েছে, সেটা আমি মানি না।”
সিংধা ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা উজ্জ্বল দত্ত বলেন, “ওই জমির খতিয়ানে গড়মিল রয়েছে।” তাঁর কাছে বিরোধপূর্ণ জমির খারিজের সুপারিশ কেন করা হয়েছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, “খারিজ নেওয়ার সময় অনুমান করেছিলাম, এটা নিয়ে ঝামেলা হবে।”
ভুয়া খারিজের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বারহাট্টা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, “ভুয়া খারিজের সত্যতা পাওয়া গেলে খারিজ বাতিল করা হবে। এতে তহশিলদারের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে যাবে। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।