প্রকাশ: রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৭ পিএম আপডেট: ২০.০৯.২০২৬ ৯:৩৫ পিএম
ছবি-যাযাদি আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় প্রীতি গ্রুপের ‘এস সুহি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক’-এর কারখানা চত্বরে ভয়াবহ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ভয়াবহ আগুনের কুণ্ডলী দেখতে পাওয়া যায়। একজন দায়িত্বরত আনসার সদস্য সহ একাধিক আহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানায় দায়িত্বগত আনসার কমান্ড। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ডিপিজেড ও জিরাবো ফায়ার স্টেশনের ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বিকট শব্দে এ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর কারখানা এলাকা থেকে একের পর এক বেশ কয়েকটি বিকট শব্দে আওয়াজ পাওয়া যায় এবং দূর থেকেই আকাশে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান স্থানীয়রা।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায় গার্মেন্টস চত্বরে বড় কাভার্ড ভ্যান থেকে গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার লোড আনলোডের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানটিতে কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করেন বলে জানা যায়। বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পরপরই কারখানার শ্রমিকদের মাঝে প্রচণ্ড আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জীবন বাঁচাতে একযোগে বাইরে বের হতে শুরু করেন হাজার হাজার শ্রমিক। তবে একের পর এক বিস্ফোরণের আশঙ্কায় ভয়ে উৎসুক জনতা ও সংবাদ কর্মী কেউই তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যাওয়ার সাহস পাননি।
সেখানে কর্মরত আনসার কমান্ডার পিসি মো. রুহুল আমিন যায়যায়দিনকে বলেন, কারখানার ভেতরে স্টিম বা বিদ্যুৎ তৈরির জন্য ব্যবহৃত বয়লারটিতে আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর ১-২ মিনিট পর পর পর প্রায় ১০ থেকে ১২টি বিকট বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়।
তিনি আরও বলেন, আনসার সদস্যরা কারখানার বাইরে মূল গেটে দায়িত্বে থাকায় ভেতরের সঠিক পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা না গেলেও বিস্ফোরণের তীব্রতায় দূর থেকে তাদের এক আনসার সদস্য আহত হন। আহত ওই আনসার সদস্যের মাথায় আঘাত লেগেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত তৈরি হয়েছে। বর্তমানে তাকে নারী ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে, সেখানে তার মাথায় সেলাই ও অন্যান্য চিকিৎসা চলছে।
আনসার কমান্ডার রুহুল আমিনের তথ্য মতে, এই বিস্ফোরণের ঘটনায় কারখানার ভেতরের বহু শ্রমিক আহত হয়েছেন। অর্ধেকেরও বেশি বা শতাধিক লোক আহত হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিহতের খবর তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।
এদিকে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রীতি গ্রুপের ঐ কারখানার সামনে হাজার হাজার উৎসুক জনতা ভিড় জমায়।
জিরাবো ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন দৈনিক যায়যায়দিনকে বলেন, সংবাদ পেয়ে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে। গ্যাস সিলিন্ডার থেকে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এখনই বিস্তারিত বলতে পারছি না।
তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কারখানার ভেতরের সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের সঠিক তথ্য জানা সম্ভব হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান শেষে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জাননো হয় ফায়ার সার্ভিস এর পক্ষ থেকে।