সংগৃহীত ছবিরান্নাঘরে তেল ছিটকে পড়া, গরম পানি পড়ে যাওয়া কিংবা অসাবধানতায় আগুনের সংস্পর্শে এসে হাত বা শরীরের কোনো অংশ পুড়ে যাওয়া খুবই সাধারণ ঘটনা। এমন পরিস্থিতিতে প্রথম কয়েক মিনিটের সঠিক পরিচর্যাই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পোড়া জায়গায় ভুল কিছু লাগালে ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। তাই ত্বক পুড়ে গেলে কী করবেন এবং কোন ভুলগুলো একেবারেই করা যাবে না, তা জানা জরুরি।
পোড়া ক্ষত কতটা গুরুতর, বুঝবেন কীভাবে?
পোড়ার গভীরতা অনুযায়ী ক্ষতকে সাধারণভাবে কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়।
প্রথম মাত্রার পোড়া: ত্বক লাল হয়ে যায় এবং ব্যথা বা জ্বালাপোড়া থাকে। সাধারণত ফোসকা পড়ে না। এ ধরনের হালকা পোড়া অনেক সময় প্রাথমিক পরিচর্যাতেই ভালো হয়ে যায়।
দ্বিতীয় মাত্রার পোড়া: ত্বকে ফোসকা দেখা দিতে পারে এবং ব্যথা তুলনামূলক বেশি হয়। এ ধরনের পোড়ায় বিশেষ করে ক্ষত বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
তৃতীয় মাত্রার পোড়া: ত্বক সাদা, বাদামি বা কালচে হয়ে যেতে পারে। স্নায়ু ও ত্বকের গভীর স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কখনও কখনও ব্যথার অনুভূতিও কম থাকতে পারে। এমন পোড়া হলে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
পোড়া জায়গায় যে ভুলগুলো করবেন না
পোড়া মাত্রই অনেকে বরফ ঘষতে শুরু করেন। কিন্তু সরাসরি বরফ বা অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার করলে ত্বকের আরও ক্ষতি হতে পারে। তাই পোড়া জায়গায় বরফ না দেওয়াই ভালো।
এ ছাড়া টুথপেস্ট, ঘি, মাখন, তেল, ক্রিম বা অন্য কোনো ঘরোয়া উপাদান পোড়া জায়গায় লাগানো উচিত নয়। এগুলো চিকিৎসার বিকল্প নয় এবং ক্ষত পরিষ্কার ও চিকিৎসা করার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি করতে পারে।
আর ফোস্কা পড়লে সেটি নিজে থেকে ফাটাবেন না। ফোস্কা ফাটালে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
পোড়া জায়গায় প্রাথমিক চিকিৎসা কীভাবে করবেন?
প্রথমেই আগুন বা গরমের উৎস থেকে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সরিয়ে নিতে হবে। এরপর পোড়া জায়গাটি সাধারণ ঠাণ্ডা প্রবাহমান পানির নিচে অন্তত ২০ মিনিট রাখতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব এই প্রক্রিয়া শুরু করা ভালো।
পোড়া জায়গার কাছে আংটি, চুড়ি, ঘড়ি বা অন্য কোনো গয়না থাকলে দ্রুত খুলে ফেলুন। কারণ পোড়া জায়গা ফুলে গেলে এগুলো শক্ত হয়ে রক্ত চলাচলে বাধা দিতে পারে। তবে কোনো পোশাক বা গয়না ত্বকের সঙ্গে লেগে গেলে জোর করে টান দিয়ে খুলবেন না।
পানি দিয়ে ঠাণ্ডা করার পর পোড়া জায়গাটি পরিষ্কার, নরম ও না-লাগা কাপড় বা উপযুক্ত পরিষ্কার আবরণ দিয়ে আলতো করে ঢেকে রাখা যায়। এতে ক্ষতটি ময়লা থেকে সুরক্ষিত থাকে।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
পোড়া জায়গা যদি খুব গভীর বা বড় হয়, কিংবা মুখ, যৌনাঙ্গ, হাত বা গুরুত্বপূর্ণ অস্থিসন্ধির মতো জায়গায় হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। বৈদ্যুতিক বা রাসায়নিক কারণে পোড়া হলেও অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষ করে ত্বক সাদা বা কালচে হয়ে যাওয়া, গভীর ক্ষত, বড় আকারের ফোসকা বা অনুভূতি কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে নিজে থেকে চিকিৎসা না করে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়াই নিরাপদ।
ত্বক পুড়ে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি। প্রথমেই পোড়া জায়গা ঠাণ্ডা প্রবাহমান পানিতে ২০ মিনিট রাখুন, বরফ বা ঘরোয়া কোনো উপাদান ব্যবহার করবেন না এবং ফোস্কা নিজে থেকে ফাটাবেন না। পোড়া যদি গভীর, বড় বা সংবেদনশীল কোনো জায়গায় হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা ক্ষতির মাত্রা কমাতে এবং পরবর্তী জটিলতা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ।