সংগৃহীত ছবিপছন্দের জামায় হঠাৎ দাগ লেগে গেলে মনটাই খারাপ হয়ে যায়। তার ওপর ঘাম, চা-কফি, তেল, মেকআপ কিংবা খাবারের দাগ সহজে উঠতে চায় না। অনেক সময় তাড়াহুড়ো করে দাগের ওপর ঘষাঘষি করতে গিয়ে উল্টো দাগ আরও ছড়িয়ে যায়। তবে দাগের ধরন বুঝে সঠিকভাবে পরিষ্কার করতে পারলে বেশির ভাগ দাগই সহজে দূর করা সম্ভব। জেনে নিন কোন দাগ কীভাবে পরিষ্কার করবেন।
ঘামের দাগ
গরমে হালকা রঙের পোশাক পরতে স্বস্তি মিললেও ঘামের কারণে সেই পোশাকেই দেখা দিতে পারে হলদে বা বাদামি দাগ। বিশেষ করে বগলের অংশে ঘাম, শরীরের তেল, লবণ ও সুগন্ধির অবশিষ্টাংশ জমে দাগ আরও জেদি হয়ে উঠতে পারে। সাধারণ সাবান বা কাপড় কাচার গুঁড়োয় অনেক সময় এসব দাগ পুরোপুরি ওঠে না।
এ ক্ষেত্রে এনজাইমযুক্ত কাপড় কাচার গুঁড়া কাজে আসতে পারে। এতে থাকা বিশেষ উপাদান ঘাম ও শরীরের তেলজাতীয় জৈব পদার্থ ভাঙতে সাহায্য করে। ফলে পুরোনো দাগও ধীরে ধীরে হালকা হতে পারে।
পোশাকের যে জায়গায় দাগ লেগেছে সেখানে পরিমাণমতো তরল কাপড় কাচার গুঁড়া বা এনজাইমযুক্ত গুঁড়া লাগিয়ে নরম হাতে ঘষে নিতে পারেন। এরপর হালকা গরম পানিতে গুঁড়া মিশিয়ে পোশাকটি প্রায় ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে ধুয়ে নিন।
ধোয়ার পর পোশাক শুকানোর আগে ভালো করে দেখে নিন দাগ পুরোপুরি উঠেছে কি না। দাগ থেকে গেলে আবার পরিষ্কার করার প্রক্রিয়াটি করা যেতে পারে। কারণ দাগ থাকা অবস্থায় সরাসরি বেশি তাপে শুকালে সেটি কাপড়ে শক্তভাবে বসে যেতে পারে।
নিয়মিত পোশাক ধোয়া, দীর্ঘ সময় ঘামে ভেজা জামা পরে না থাকা এবং ধোয়ার আগে বগলের অংশে জমে থাকা দাগের দিকে নজর রাখলে পুরোনো ছোপ পড়ার প্রবণতাও কমানো যায়।
রক্তের দাগ
তাজা দাগ: ঠান্ডা পানিতে কাপড় ভিজিয়ে তারপর ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
পুরোনো দাগ: দাগের ওপর লবণ ছড়িয়ে ঘষে ফেলুন। এরপর সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
চা বা কফির দাগ
◑ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে কিছুক্ষণ রেখে তারপর লিকুইড ডিটারজেন্ট দিয়ে ঘষুন।
◑পুরোনো দাগের জন্য অক্সিজেন ব্লিচ বা সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট ব্লিচ ব্যবহার করুন।
মেকআপ বা লিপস্টিকের দাগ
◑দাগের ওপর ট্যালকম পাউডার ছিটিয়ে ঘষে নিন।
◑এরপর কুসুম গরম পানিতে লিকুইড ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেললেই দাগ চলে যাবে।
তেল বা গ্রিজের দাগ
◑হালকা দাগ হলে উষ্ণ পানিতে ভিজিয়ে রেখে প্রি-ওয়াশ স্টেইন রিমুভার লাগিয়ে দিন।
◑তারপর ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
◑পুরোনো দাগের জন্য অক্সিজেন ব্লিচ ব্যবহার করা যেতে পারে।
হলুদ বা মশলার দাগ
◑লেবু দিয়ে ঘষে রোদে শুকিয়ে দিন। তারপর ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
◑চাইলে গ্লিসারিন ব্যবহার করেও দাগ তুলতে পারেন—দাগের ওপর লাগিয়ে এক ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন।
কলমের কালির দাগ
◑কাপড়টিকে কাচ বা পাত্রের ওপর বিছিয়ে নিন।
◑তারপর ড্রপার দিয়ে রাবিং অ্যালকোহল দাগের ওপর দিন—কালি নিচে গড়িয়ে পড়বে।
◑এরপর ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে নিন।
কোমল পানীয় বা সফট ড্রিঙ্কসের দাগ
◑যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঠান্ডা পানিতে কাপড়টি ভিজিয়ে ফেলুন।
◑তারপর স্টেইন রিমুভার লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
◑দরকার হলে হালকা ব্লিচ ব্যবহার করুন।
ক্যাচাপ বা সসের দাগ
◑চামচ দিয়ে যতটা সম্ভব দাগের উপরের অংশ তুলে ফেলুন।
◑তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ভিনেগার দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করুন।তবে একদম শুরুতে ঘষাঘষি করবেন না। এতে দাগ ছড়িয়ে যেতে পারে।
কাদা বা মাটির দাগ
◑শুকাতে না দিয়ে সরাসরি পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন।
◑এরপর ডিটারজেন্ট পেস্ট দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন।
◑পুরোনো দাগ হলে অক্সিজেন ব্লিচ ব্যবহার করুন।
ফলের রস বা জুসের দাগ
◑কাপড়টিকে কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।
◑তারপর সাবান দিয়ে ঘষে ধুয়ে ফেলুন।
◑রঙিন ফলের দাগ হলে গ্লিসারিন ব্যবহার করে ধুয়ে নিন। সাবান এড়িয়ে চলুন।
চকলেটের দাগ
◑প্রথমে গরম পানি ও সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
◑প্রয়োজন হলে সামান্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে পারেন।
জামায় দাগ লাগলেই সেটি ফেলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং দাগের ধরন বুঝে দ্রুত ব্যবস্থা নিলে অনেক ক্ষেত্রেই সহজে তা পরিষ্কার করা সম্ভব। তবে কোনো পরিষ্কার করার উপাদান ব্যবহারের আগে পোশাকের লেবেলে দেওয়া নির্দেশনা দেখে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে ব্লিচ বা অন্য কোনো শক্তিশালী পরিষ্কারক ব্যবহারের আগে কাপড়ের রং ও ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন। এতে পছন্দের পোশাকও থাকবে পরিষ্কার, আর দাগ নিয়ে অযথা চিন্তাও করতে হবে না।