ম্যানেজার সুমনের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর,সীমান্তে রেড অ্যালার্ট’ মূল হোতা তানভীরকে গ্রেফতারে ডিবির সাঁড়াশি অভিযান
টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতরা। একটি রাতের অবকাশযাপন মুহূর্তেই পরিণত হলো জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে। কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন ইনানী পাটোয়ারটেকের ‘টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে’ প্রলয়ঙ্করী অগ্নিকাণ্ডের পর আজ দ্বিতীয় দিনে আইনি প্রক্রিয়া ও উচ্ছেদ অভিযান চূড়ান্ত কঠোর রূপ ধারণ করেছে।
রোববার সকাল থেকেই ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ উদ্ধারকারী দল টুপটুপ রিসোর্টের ছাইচাপা পোড়া কাঠ, লোহা ও গলিত টিনের স্তূপ ধুয়ে মুছে নিখোঁজ আরও সম্ভাব্য ৪ জনের সন্ধানে নিবিড় চিরুনি তল্লাশি অব্রাহত রেখেছে।
স্বজনদের চোখে ঘুম নেই, মুখে কথা নেই আছে শুধু প্রিয়জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার প্রতীক্ষা। ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে উড়ছে ধোঁয়া, অন্যদিকে নিখোঁজ এক দম্পতি ও তাঁদের দুই শিশুসন্তানের সন্ধান না মেলায় উদ্বেগ ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। এই মর্মান্তিক বিপর্যয় শুধু একটি রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তা নয়,কক্সবাজারের পর্যটন অবকাঠামোর অনুমোদন, তদারকি ও জবাবদিহির প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে।অপরদিকে, আগুনে পুড়ে যাওযা ১০ পর্যটকের মরদেহ শনাক্তে বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় হাসপাতাল মর্গে স্বজনদের অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘতর হচ্ছে।
এদিকে কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেকের টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁ পরিদর্শন করেছে তদন্ত কমিটি রোববার বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সাত সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির সদস্যরা।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম ) তাসনীম জাহান বলেন, আগুনের সূত্রপাতের কারণ এবং অনুমোদন না নিয়ে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে তদন্ত কমিটির সদস্যরা তথ্য সংগ্রহ করছেন। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এর আগে চুড়ান্ত নোটিশ প্রদান করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টরা কোনো ধরণের কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হলেও রিসোর্টে অবস্থানকারী পর্যটকদের মূল হিসাব নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। আগুনে সম্পূর্ণ বিকৃত ও অঙ্গার হয়ে যাওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে সকালে ঢাকার মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে নিহত একই পরিবারের সদস্যদের নিকটাত্মীয়দের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে বলে সিআইডি সুত্র জানায়।
ইনানী পাটোয়ারটেক ট্র্যাজেডিতে অবহেলাজনিত মৃত্যু ও দাহ্য পদার্থের অবৈধ মজুতের অভিযোগে উখিয়া থানায় ২৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় রিসোর্টের মূল স্বত্বাধিকারী বোয়ালখালীর মো. তানভীর আহমদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই তানভীরসহ এজাহারনামীয় অন্য ৩ মালিক সপরিবারে আত্মগোপন করেছেন। আসামিরা যেন টেকনাফ বা কোনো নৌ—রুট ব্যবহার করে পার্শ্ববর্তী দেশে পালাতে না পারেন, সেজন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সীমান্তে বিশেষ রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মামলার অন্যতম এজাহারনামীয় আসামি এবং রিসোর্ট ইনচার্জ জাহিদুল ইসলাম সুমনকে দুপুরে কক্সবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে উখিয়া থানা পুলিশ। বিজ্ঞ আদালত শুনানি শেষে সুমনের ৩ দিনের পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বিশ্বস্ত সুত্র জানায়, রোববার সিলগালা হওয়া ৭টি রিসোর্ট হলো ইনানী ইকো ক্রাফট, মেরিন উড কটেজ, নীল সমুদ্র ইকো রিসোর্ট, পেঁচারদ্বীপ ইকো লজ, মেরিন ভিউ কটেজ, ইনানী বিচ রিসোর্ট (কটেজ অংশ) এবং স্যান্ড ক্যাসেল কটেজ।
বিশেষ গ্রিন করিডোর দিয়ে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পৌঁছানোর পর মুগদা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ডা. শিহাব উদ্দিন সাদী (৩১)কে সরাসরি আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শ্বাসনালীর বড় একটি অংশ এবং শরীরের প্রায় ৩৫% গভীরভাবে দগ্ধ হয়েছে, যার কারণে তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯) এবং অপর পর্যটক মান্নান (৩৪) বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন।