প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১২ পিএম
ছবি: যাযাদিকিশোরগঞ্জের ভৈরবে চাদা না পেয়ে একটি কারখানার দুই মালিককে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকাভর্তি একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর দুই টার দিকে ভৈরব শহরের চন্ডিবের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত দুই ভাই হলেন নুরুল হক (৪৫) ও মাসুদ রানা (৪০)। তারা চন্ডিবের এলাকার মৃত শহীদ মিয়ার ছেলে এবং ওই এলাকায় অবস্থিত খাজা স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ নামের গুনা উৎপাদনকারী কারখানার মালিক। আহত নুরুল হকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার ছোট ভাই মাসুদ রানাকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আহত নুরুল হকের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে তারা দুই ভাই মিলে এলাকায় খাজা স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ নামে কারখানাটি প্রতিষ্ঠা করেন। কারখানাটি লাভজনক হওয়ার পর থেকে এলাকার মোহাম্মদ আলী ও তার ছেলেসহ কয়েকজন তাদের কাছে বিভিন্ন সময় চাদা দাবি করতেন। প্রথম দিকে ভয়ে তারা মাঝেমধ্যে চাদা দিলেও বিষয়টি কাউকে জানাননি। সম্প্রতি অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বড় অঙ্কের টাকা দাবি করতে থাকলে তারা চাদা দিতে অস্বীকার করেন।
নুরুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার দুপুর দুই টার দিকে তারা দুই ভাই কারখানা থেকে ১৬ লাখ টাকা নিয়ে ব্যাংকে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। এ সময় মোহাম্মদ আলী, তার ছেলেসহ কয়েকজন তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। হামলাকারীরা দা দিয়ে তাদের হাত-পায়ে কোপ দেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে তারা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাদের সঙ্গে থাকা ১৬ লাখ টাকার ব্যাগ নিয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার খবর পেয়ে স্বজনেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে দুই ভাইকে উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুরুল হকের শারীরিক অবস্থা গুরুতর বিবেচনায় তাকে ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা।
আহতদের ভগ্নিপতি মো. রবিন মোল্লা বলেন, মোহাম্মদ আলী দীর্ঘদিন ধরে তার শ্যালকদের কাছে বড় অঙ্কের চাদা দাবি করে আসছিলেন। তারা চাদা দিতে অস্বীকার করায় রোববার দুপুরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আবদুল করিম জানান, আহত নুরুল হকের দুই পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং তার একটি পা ভেঙে গেছে। এ কারণে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপর আহত মাসুদ রানার হাত-পায়েও গুরুতর আঘাত রয়েছে। তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী ও তার সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর তারা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যাওয়ায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভৈরব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে কথা বলেছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।