বরিশালে বিএনপির দুই নেতার পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, চাদাবাজি ও মারধরের অভিযোগ

বরিশাল ব্যুরো

সারাদেশ

বরিশাল মহানগর বিএনপির এক ওয়ার্ড নেতার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি, মারধর, জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার

2026-10-18T21:41:11+06:00
2026-10-18T21:41:11+06:00
রোববার ● ১৮ অক্টোবর ২০২৬
২ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
বরিশালে বিএনপির দুই নেতার পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, চাদাবাজি ও মারধরের অভিযোগ
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪১ পিএম  
ছবি: যাযাদি
বরিশাল মহানগর বিএনপির এক ওয়ার্ড নেতার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি, মারধর, জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মহানগর বিএনপির এক নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরীনের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নাসরীনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে শরীফ ফিরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে চুক্তির অর্থ নিয়ে বিরোধের অভিযোগ তুলেছেন আরেক বিএনপি নেতা মনোয়ার হোসেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বরিশাল প্রেসক্লাবে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ তুলে ধরেন বিএনপির দুই নেতা। প্রথম সংবাদ সম্মেলনে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং বরিশাল মহানগর পুলিশের কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ২২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক শরীফ ফিরোজ আহমেদ।

লিখিত বক্তব্যে ফিরোজ আহমেদ দাবি করেন, একসময় তিনি মহানগর বিএনপির এক নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরীনের সঙ্গে রাজনীতি করতেন। পারিবারিক কিছু ঘটনায় নাসরীনের কাছ থেকে সুবিচার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি তার রাজনৈতিক বলয় থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। পরে মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন শিকদারের সঙ্গে কয়েকজন নেতাকর্মীর সৌজন্য সাক্ষাতে অংশ নেন তিনি। ওই সাক্ষাতের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর নাসরীন তাকে ও তার স্ত্রীকে ফোনে গালিগালাজ এবং হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন ফিরোজ।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর জের ধরে গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নথুল্লাবাদ বাজারে গেলে নাসরীনের অনুসারী পরিচয় দেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি তার পথরোধ করেন। পরে তাকে একটি অফিসকক্ষে নিয়ে মারধর করা হয় এবং নাসরীনের রাজনৈতিক বলয় ছেড়ে আসার কারণ জানতে চাওয়া হয়।

ফিরোজের দাবি, এ সময় ওই ব্যক্তিরা ফোনে নাসরীনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাকে আঘাত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে নাসরীনের স্বামীর নির্দেশের কথা উল্লেখ করে তার কাছে দুই লাখ টাকা পাওনা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার পর এয়ারপোর্ট থানায় অভিযোগ করেন বলে জানান ফিরোজ। তার অভিযোগ, পরে আদালত থেকে তাকে জোর করে থানায় নিয়ে গিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হয়। নাসরীনও থানায় গিয়ে তাকে মারতে উদ্যত হন বলে দাবি করেন তিনি। তবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং পরে তার কাছ থেকে নেওয়া স্ট্যাম্পটি ফেরত দেওয়া হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান ফিরোজ।

সংবাদ সম্মেলনে ফিরোজ আরও দাবি করেন, নাসরীন ও তার অনুসারীরা বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। তার বাসায় লোক পাঠিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এতে তার দুই কন্যাসন্তানও ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাসরীনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান ফিরোজ।

এ ছাড়া বরিশালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে পাইপলাইনের মাধ্যমে বালুর ব্যবসা নিয়ে বিরোধের কথা উল্লেখ করেন তিনি। ফিরোজের অভিযোগ, ব্যবসায় তার অংশীদারত্বের বাইরে নাসরীন তার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করছেন। রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে দলীয় পদ ও জনপ্রতিনিধি বানানোর আশ্বাস দিয়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ফিরোজ আহমেদের সংবাদ সম্মেলনের প্রায় এক ঘণ্টা পর পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন ২২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মনোয়ার হোসেন। তিনি দাবি করেন, ওয়ার্ডের বালুভরাটের চুক্তিসংক্রান্ত অর্থ নিয়ে বিরোধের বিষয়টি মীমাংসিত হয়েছে। এরপরও ফিরোজ আহমেদ বিষয়টি সামনে এনে অন্যের চরিত্র হননের চেষ্টা করছেন।

মনোয়ারের অভিযোগ, বালুভরাটের চুক্তির অর্থ ফিরোজ আহমেদের জিম্মায় ছিল। ওই অর্থের সঙ্গে ওয়ার্ডের আরও ২০ থেকে ২২ জনের যৌথ টাকাও যুক্ত ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ফিরোজ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের টাকা বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন না। এ নিয়ে একাধিকবার আলোচনা ও বৈঠক হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মনোয়ার আরও বলেন, আলোচনার সময় ফিরোজ কখনো টাকা খরচ হয়ে যাওয়ার কথা, আবার কখনো আংশিক টাকা দেওয়ার কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ফিরোজ নিজেই টাকা পরিশোধের বিষয়টি স্বীকার করেন এবং ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও টিপসই দেন। ওই স্ট্যাম্পে ডিসেম্বরের মধ্যে টাকা পরিশোধের কথা উল্লেখ ছিল বলে দাবি করেন মনোয়ার।

এ ছাড়া এক অক্টোবর থানায় বসে ফিরোজ নিজেই অভিযোগ প্রত্যাহার করেন বলে দাবি করেন তিনি।

দুই নেতার পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে বালুভরাটের চুক্তির অর্থ, স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর এবং থানায় অভিযোগ প্রত্যাহারের বিষয়গুলো সামনে এসেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও ঘটনার স্বাধীন যাচাই ছাড়া কোনো পক্ষের দাবিকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
  বিষয়:   বরিশাল  বিএনপি  সংবাদ সম্মেলন  চাঁদা 


সারাদেশ- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত