প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০০ পিএম
ছবি-যাযাদি কুষ্টিয়ার মিরপুরে ৩০ হাজার টাকায় নবজাতক বিক্রি করে নিখোজ এর নাটক সাজিয়ে পুলিশের সাহায্য উদ্ধার করে পরে অন্যত্র বেশি দামে বিক্রয় এর পরিকল্পনা করার অভিযোগ উঠেছে এক পিতার বিরুদ্ধে।
পরে নিখোজের ছয় ঘণ্টার মধ্যে নবজাতককে রবিবার রাতে উপজেলার বহলবাড়িয়া এলাকার স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসক আনিসের বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে মিরপুর থানা পুলিশ।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চিথলিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ১৮ অক্টোবর দুপুরে মিরপুর থানায় তার দুই দিন বয়সী ছেলে সন্তান নিখোঁজ হয়েছে জানিয়ে অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, সন্তান জন্মের পর মিরপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিক থেকে শিশুটি নিখোঁজ হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর মিরপুর থানার এসআই মো. মনিরুজ্জামান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তদন্ত শুরু করেন। তদন্তের একপর্যায়ে অভিযোগকারী পরিবারের সদস্যদের কথাবার্তায় অসংগতি ধরা পড়ে। পরে তাদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে শিশুটিকে ওই ক্লিনিক থেকে বিক্রির বিষয়টি পুলিশের সামনে আসে।
পুলিশের দাবি, শিশুটির বাবা আলাউদ্দিন, মা সিমা খাতুন (২৪) এবং পরিবারের কয়েকজন সদস্যের সংশ্লিষ্টতায় নবজাতককে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। পরে শিশুটিকে উপজেলার বহলবাড়িয়া ইউনিয়নের নওদা খাদিমপুর গ্রামের আনিস নামের এক গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে দেওয়া হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আনিস জানান, তাদের সংসারে কোনো সন্তান না থাকায় শিশুটিকে লালন-পালনের উদ্দেশ্যে শিশুটির বাবা-মায়ের কাছ থেকে নিয়েছিলেন।
তবে তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, শিশুটির দুই ফুফু ববিতা ও শাপলা খাতুন শিশুটিকে কম দামে বিক্রি করা হয়েছে এবং অন্যত্র প্রায় দুই লাখ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব- এমন কথা শিশুটির বাবাকে জানান। এরপর শিশুটিকে বেশি দামে অন্যত্র বিক্রির উদ্দেশ্যে আলাউদ্দিন নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে থানায় অভিযোগ করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, দুই দিন বয়সী নবজাতক নিখোজের অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ কাজ শুরু করে। অভিযোগের ছয় ঘণ্টার মধ্যে শিশুটিকে রাতেই উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের পর নবজাতককে তার মায়ের হেফাজতে দেওয়া হয়। শিশুটিকে তার বাবা কম দামে বিক্রি করে অন্যত্র বেশি দামে বিক্রির আসায় নিখোঁজের নাটক সাজিয়েছিলেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।