প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৭ পিএম
ছবি: যাযাদিমাদারীপুরের ডাসারে স্বামীর কথিত পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় পুতুল সমাদ্দার (৫২) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার ডাসার ইউনিয়নের ধামুসা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী অরুণ সমাদ্দার ও তার কথিত প্রেমিকা সারথী দে পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এটি হত্যাকাণ্ড কি না, তা ময়নাতদন্ত ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অরুণ সমাদ্দারের সঙ্গে একই গ্রামের সারথী দে নামে এক গৃহবধূর দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ। এ নিয়ে পুতুল সমাদ্দারের সঙ্গে তাঁর স্বামীর প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিস-মীমাংসা হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি পরিবারের।
পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার ভোরে এ বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রান্নাঘরে তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পুতুলের চিৎকার শুনে অরুণের বড় বোন পুষ্প দাস সেখানে ছুটে যান। পরে তিনি পুতুলকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনার পর অরুণ সমাদ্দার পালিয়ে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নিহত পুতুল সমাদ্দার ধামুসা গ্রামের বাসিন্দা ও মৃত পুলিন নাগের মেয়ে। তার স্বামী অরুণ সমাদ্দার একই গ্রামের মৃত জিতেন সমাদ্দারের ছেলে। তাদের সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
নিহতের বড় বোন পুষ্পা রাণী অভিযোগ করে বলেন, তার বোনের স্বামীর সঙ্গে একই এলাকার সারথী নামে এক গৃহবধূর পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। ওই নারীকে বাড়িতেও নিয়ে আসতেন অরুণ। এ নিয়ে পুতুল প্রতিবাদ করতেন। সেই বিরোধের জেরেই তার বোনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। এ ঘটনায় অরুণ ও তাঁর কথিত প্রেমিকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
ডাসার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য গৌতম সরকার বলেন, পরকীয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী ও অভিযুক্ত নারী পলাতক রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান মাহমুদ বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পুতুল সমাদ্দারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এটি হত্যাকাণ্ড কি না, তা ময়নাতদন্ত ও পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।