প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৭ পিএম
ছবি: যাযাদিঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির বাড়িতে হামলা, তাঁর আট সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পেটে লাথি মেরে গর্ভপাত ঘটানো, বোনকে কুপিয়ে জখম এবং বাড়িঘর ভাঙচুর করে নগদ ৭০ হাজার টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত স্ত্রী সাবিহা খাতুনকে যশোরে এবং বোন পপি খাতুনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী রুবেল হোসেন গত ১৭ অক্টোবর প্রতিবেশী সোহাগ হোসেনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জামাল ইউনিয়নের তৈলকুপী গ্রামের বাসিন্দা রুবেল হোসেনের সঙ্গে প্রতিবেশী সোহাগের পরিবারের বিরোধ ছিল। এর জেরে গত পাচ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে সোহাগের নেতৃত্বে সাত থেকে আট জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রুবেলের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা রুবেলকে মারধর করে। এ সময় স্বামীকে রক্ষা করতে তার আট সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সাবিহা খাতুন এগিয়ে এলে তার পেটে লাথি মারা হয়। এতে তার রক্তক্ষরণ শুরু হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভাই ও ভাবিকে রক্ষা করতে রুবেলের বোন পপি খাতুন এগিয়ে এলে তাঁকেও মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়। একপর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে তার মাথায় কোপ দিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে হামলাকারীরা রুবেলের টিনের বসতঘর ভাঙচুর করে ঘরে থাকা নগদ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায় বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
পরে স্থানীয়রা আহত সাবিহা ও পপিকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সাবিহাকে যশোরে এবং পপিকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
রুবেল হোসেন জানান, তিনি পেশায় একজন ইজিবাইকচালক। পূর্বশত্রুতার জের ধরে তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার স্ত্রীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে বলে চিকিৎসক তাকে জানিয়েছেন বলে দাবি করেন রুবেল।
তিনি আরও জানান, স্ত্রী ও বোনের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় থানায় অভিযোগ দিতে দেরি হয়েছে। তবে অভিযোগ দেওয়ার চার দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, শারদীয় দুর্গাপূজার দায়িত্ব পালনে পুলিশের ব্যস্ততার কারণে অভিযোগটি তদন্তে কিছুটা দেরি হয়েছে। ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।