প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৩.১০.২০২৬ ১০:৪৮ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)

দাম্পত্য কলহ, মানসিক নির্যাতন আর সন্তানদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার যন্ত্রণা নিয়ে কঠিন দিন পার করছেন বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি। স্বামী পিটার হাগের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ঘর ছেড়েছেন ‘নো এন্টিৃ’খ্যাত এই স্টার। সন্তানদের মানসিক সুরক্ষার কথা ভেবে নীরব থেকে আইনি লড়াই চালিয়ে গেলেও পরিস্থিতি এখন আরো জটিল রূপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোশাল মিডিয়ার মাধ্যম ইন্সটাগ্রামে সন্তানদের সঙ্গে তোলা কিছু আবেগঘন ছবি শেয়ার করে নিজের চরম দুর্দশার কথা তুলে ধরেছেন সেলিনা। তিনি জানান, গত বছরের ১২ অক্টোবর অস্টৃয়া থেকে মাত্র একটি সুটকেস হাতে নিয়ে তিনি মুম্বাইয়ে ফেরেন। সেই সুটকেসে ছিল জরুরি কিছু কাগজপত্র, প্রয়াত মায়ের ব্যবহৃত একটি শাড়ি আর একরাশ মানসিক যন্ত্রণা।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে।
বিবাহবার্ষিকীর দিনে পোস্ট অফিসে উপহার পাওয়ার আশা করেছিলেন সেলিনা। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, উপহারের বদলে স্বামী পাঠিয়েছেন আইনি নোটিশ। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের নভেম্বরে মুম্বাইয়ের আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা গড়ায়। প্রথম শুনানিতে বিচারক দুই পক্ষকে সমঝোতার সুযোগ দিলে সেলিনা ইতিবাচক চেষ্টা করেছিলেন। স্বামীর নির্যাতনের কথা গোপন রেখে বিচ্ছেদের আবেদন করলেও তাতে সাড়া মেলেনি বলে দাবি তার।
সেলিনার অভিযোগ, অস্টৃয়ার প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় রাতের আধারে বাড়ি ছেড়ে তিনি সাময়িকভাবে একটি হোটেলে ওঠেন। সে সময় প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও আদালতে সম্পত্তি ফেরত চাওয়ার পরপরই তা বন্ধ করে দেয়া হয়। বর্তমানে সন্তানদের কাছে তাকে ভুলভাবে তুলে ধরা হচ্ছে এবং মাতৃত্বের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র চলছে।
নিজের মাতৃত্ব ও দায়িত্ববোধের প্রমাণ হিসেবে অভিনেত্রী লারা দত্তসহ স্থানীয় চিকিৎসক, প্রতিবেশী ও স্কুলের শিক্ষক অভিভাবকদের নাম উল্লেখ করেছেন তিনি। ২০১০ সালে হায়দরাবাদে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই অভিনেত্রী এখন কেবল ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।