প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৩.১০.২০২৬ ১০:৪৫ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
সংগৃহীত ছবিত্রিশ বছর ধরে অভিনয় করা অভিনেতা সমু চৌধুরীর এখন বিবর্ণ জীবন। মানসিক অসুস্থতার কারণে ‘লাইট-ক্যামেরা-একশন’র জীবন ফেলে এখন বোহেমিয়ান তিনি।
মাঝে মধ্যেই তার ভবঘুরে-উদভ্রান্ত জীবনের দু’-একটি রিল ভেসে আসছে সোশাল মিডিয়ার ক্যানভাসে। তবে তাকে চিকিৎসা-পুনর্বাসনের মাধ্যমে একটু স্বস্তির জীবন ফিরিয়ে দেয়ার উদ্যোগের কথা জানালেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যশোরের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু। স্থানীয় উদীচীর মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পা রাখা সমু চৌধুরী পাচ শতাধিক নাটক ও ডজনখানেক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
সমু চৌধুরীর জন্ম যশোরে, ১৯৬৪ সালের ৮ জুন। ছাত্র জীবনে ’৮০-এর দশকে তিনি যশোর উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রায় ১০ বছর পথনাটক, মঞ্চনাটক ও গণসংগীতে অংশ নেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকায় চলে আসেন। যুক্ত হন সেন্টার ফর এশিয়ান থিয়েটার-সিএটিতে।
এ ছাড়াও ঢাকা উদীচী, ঢাকা থিয়েটার ও নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৯০ সালের ২২ মার্চ আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় ‘সমৃদ্ধ অসীম’ নাটকের মাধ্যমে বাংলাদেশ টেলিভিশনে তার অভিষেক হয়। প্রথম নাটকের জন্য তিনি সম্মানি পেয়েছিলেন ৭০০ টাকা।
১৯৯৫ সালে আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘আদরের সন্তান’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় সমু চৌধুরীর। পরে ‘মায়ের অধিকার’, ‘দেশ দরদী’, ‘সুন্দরী বধূ’, ‘নদীর নাম মধুমতী’, ‘গলুই’ ও ‘মুজিব : একটি জাতির রূপকার’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি। তবে এক পর্যায়ে প্রায় তিন বছর কাজ থেকে দূরে ছিলেন তিনি। ওটিটিতেও কাজ করছেন এই অভিনেতা। ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’ (২০২৪) ও ‘নয়া নোট’ (২০২৫)-এ তাকে দেখা গেছে।
১৯৯৩ সালের ২৬ জুলাই এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছোট বোন রোজিনা চৌধুরী রুবিকে নিয়ে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান পুলিশ কর্মকর্তা বাবা আবুল কাশেম চৌধুরী। পরে ২০১৮ সালে ছোট ভাই সনু চৌধুরীকেও হারান তিনি।
বাবা ও ছোট বোনের মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে তার কাধে। এক সাক্ষাৎকারে সমু চৌধুরী জানিয়েছিলেন, মায়ের দেখাশোনার কথা বিবেচনা করেই তিনি বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেন। ব্যক্তি জীবনে অবিবাহিত এই অভিনেতার জীবনে মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ তাই গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
অভিনয় দিয়ে দর্শকের মন জয় করা অভিনেতা সমু চৌধুরীর বোহেমিয়ান জীবনের কিছু ছবি-ভিডিও সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ২০২৫ সালের জুনে প্রথম ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মুখী শাহ মিসকিন মাজারে গামছা পরা অবস্থায় সমু চৌধুরীর একটি ছবি ও ভিডিও সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্বজন ও অভিনয় শিল্পী সংঘের সদস্যরা সেখানে যান। পুলিশ তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর তিনি যশোরে মায়ের কাছে ফিরে যান।
এরপর চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর যশোর শহরের বেজপাড়া নলডাঙ্গা সড়কে নতুন বাজার এলাকায় নিজের বাড়ির সামনে হামলার শিকার হন সমু চৌধুরী। সর্বশেষ লালন শাহের মাজারে তার কিছু ভিডিও ঘুরছে সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে। প্রিয় এই অভিনেতার শারীরিক-মানসিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকেই।