সংগৃহীত ছবিনাটকের মাধ্যমে সমাজ জীবনের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে দর্শক হৃদয় আন্দোলিত করার দৃঢ় প্রত্যয়ে পথচলা শুরু হয়েছিল নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়ের। ভিন্নধর্মী প্রযোজনার মধ্য দিয়ে দর্শক মনে কড়া নেড়ে গেছে দলটি। এভাবেই পথ চলতে গিয়ে দলটি স্পর্শ করেছে ৪৯ বছরের মাইলফলক। এ উপলক্ষে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে নান্দনিকের ‘৪৯ বছর পূর্তি উৎসব’। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় আয়োজিত দুই দিনের এ উৎসবে থাকছে নাটক ও মুভির প্রদর্শনী। বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৫টায় ছিল উৎসবের উদ্বোধনী আয়োজন।
এদিন সন্ধ্যা ৭ :৩০ মিনিটে প্রদর্শিত হয় নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ রচিত মঞ্চনাটক ‘নৃপতি’। স্বৈরশাসকদের একনায়কতন্ত্র ও খেয়ালিপনার প্রতিবাদে ব্যঙ্গাত্মক এ নাটক রচনা করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। এ নাটক নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায় প্রথম মঞ্চে আনে নব্বই দশকে। দলটির অষ্টম এই প্রযোজনা দর্শকের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছিল। সে কারণে ‘৪৯ বছর পূর্তি উৎসব’-এ মঞ্চায়নের জন্য আরো একবার এই নাটকটি বেছে নেয়া হয়েছে বলে নান্দনিকের সদস্যরা জানান।
গতকাল উৎসবের দ্বিতীয় দিনেও মঞ্চস্থ হয়েছে ‘নৃপতি’ নাটকটি। বদরুদ্দোজ্জার নির্দেশনায় এতে অভিনয় করেছেন হাসানুজ্জামান, নিলুফার ওয়াহিদ, সোহেল রানা, শাহ আলম, অভীক মজুমদার প্রমুখ। সন্ধ্যা ৬টায় ‘নৃপতি’র দ্বিতীয় মঞ্চায়নের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সোহেল রানা বয়াতি পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নয়া মানুষ’ প্রদর্শিত হয়।
২০২৪ সালের ৬ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া ‘নয়া মানুষ’ মুভির কাহিনী গড়ে উঠেছে বানভাসি মানুষদের জীবন সংগ্রাম নিয়ে। এতে দেখা যায়, একদিকে নদীর এক কূল ভাঙছে, অন্যদিকে জেগে উঠছে নতুন চর। ভাসতে থাকা মানুষ তাই এক চর থেকে আরেক চরে চলে যাচ্ছে। নতুন মানুষ চরে আসার পর তারা মোকাবিলা করে চলেছে নানা সংকট ও সমস্যার। এর মধ্যেও বানভাসি মানুষের জীবনে আসছে প্রেম; স্পষ্ট হয়ে উঠছে তাদের প্রকৃতি ও জীবনদর্শন। নান্দনিকের সভাপতি আ মা ম হাসানুজ্জামানের ‘বেদনার বালুচর’ শিরোনামে লেখা এমনই এক গল্প অবলম্বনে নির্মিত ‘নয়া মানুষ’ মুভির চিত্রনাট্য লিখেছেন মাসুম রেজা। সোহেল রানা বয়াতির পরিচালনায় মুভির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রওনক হাসান, মৌসুমী হামিদ, আশীষ খন্দকার, বদরুদ্দোজা, ঝুনা চৌধুরী, স্মরণ সাহা, নিলুফার ওয়াহিদ, পাপরি সানজানা, পারভিন পারু, শিখা কর্মকার, মাহিন রহমান, শিশুশিল্পী ঊষশীসহ অনেকে। মুভিটির উৎসবে দর্শকের মনে ছাপ ফেলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নান্দনিকের সদস্যরা।
‘৪৯ বছর পূর্তি উৎসব’ নিয়ে নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়ের সাধারণ সম্পাদক বদরুদ্দোজা বলেন, ‘নান্দনিক বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আমরা ৪৯ বছরের এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছি। নান্দনিক চেতনা জাগ্রত হোক তোমার আমার সবার প্রাণে- এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রার অংশীদার হতে চাই।’
সভাপতি আ মা ম হাসানুজ্জামান বলেন ‘নাটকের মাধ্যমে সমাজ জীবনের সব জটিলতাকে ছিন্ন করে সুস্থ ও সৎ নাট্যচর্চার ক্ষেত্র সৃষ্টি করা আমাদের কর্তব্য। আমাদের এই ৪৯ বছর পূর্তি উৎসব-মুহূর্তে অভিনন্দন জানাচ্ছি দর্শক ও শুভানুধ্যায়ীদের। তাদের অকুণ্ঠ সহযোগিতা আমাদের প্রযোজনাগুলোকে মঞ্চে নিয়ে আসতে সাহায্য করেছে।’
প্রসঙ্গত, ১৯৭৭ সালে জনাকয়েক তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে জন্ম নেয় নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়। তাদের লক্ষ্য ছিল নাটকের মাধ্যমে সমাজ জীবনের প্রতিচ্ছবি দর্শকদের সামনে তুলে ধরা।