রাজনীতির সদরে-অন্দরে বইটি কালোত্তীর্ণ হবে

বিশেষ প্রতিনিধি

সাহিত্য

রাজনীতির সদরে-অন্দরে বইটি কালোত্তীর্ণ হবে বলে প্রত্যাশা করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল

2026-08-18T20:58:30+06:00
2026-08-18T20:58:30+06:00
সোমবার ● ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১০ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
সাহিত্য
মারুফ কামাল খানের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
রাজনীতির সদরে-অন্দরে বইটি কালোত্তীর্ণ হবে
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৫৮ পিএম  
ছবি-যাযাদি
রাজনীতির সদরে-অন্দরে বইটি কালোত্তীর্ণ হবে বলে প্রত্যাশা করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, লেখকের আর্থিক সুবিধার জন্য নয় বরং নিজেদের জ্ঞান বৃদ্ধি, চিন্তাকে শাণিত করতে হলে বইটি কিনতে হবে। লেখা ও বিষয়বস্তুর কারণে বইটি কালোত্তীর্ণ হবে। এ বই শুধু সাংবাদিকতা নয় বরং সাংবাদিক এবং একজন রাজনৈতিক কর্মীর সচেতনতা মিলিয়ে যে উদ্যোগটা হয় সেই সংমিশ্রণ থেকে লেখা হয়েছে। সব বই নিয়ে অনেকক্ষণ বলা না গলেও এই বইটা সম্পর্কে অনেকক্ষণ বলা যায়। বইয়ের প্রত্যেকটা অধ্যায় আপনাকে ভাবতে শিখাবে। আপনার জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করবে। ‘রাজনীতির সদর-অন্দরে’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সূচীপত্র। সূচীপত্রের প্রকাশক ও প্রধান নির্বাহী সাঈদ বারীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। অনুষ্ঠানে বইটি নিয়ে আলোচনা করেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাঈদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও কবি  আবদুল হাই শিকদার এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী। বইটির গ্রন্থকার মারুফ কামাল খান।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বইটির প্রসংশা করেছেন। আমি বইটি পড়েছি, আবার পড়বো। 

এদেশের রাজনীতিতে যারা নন্দিত তাদের নিয়ে কথা বলার লোক আছে। আর যারা নিভৃত তারা পিছিয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ উদীয়মান উর্য্যের পুজা করে। বহু রাজনীতিবিদ সম্পর্কে আমরা অনেক কিছু জানি না। বইটিতে বলা হয়েছে জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর দুটি কুকুরের নাম ছিল ফিল্ড মার্শাল ও ইন্দিরা। এটি আমরা কজন জানি। 

তিনি বলেন, মারুফ কামাল বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করলেও ওসমানীকে নিয়ে তার চেয়ে বেশি পৃষ্ঠা লেখেছেন। রাজনীতিতে ইতিহাসে যাদেরকে ভুলিয়ে দেওয়া হচ্ছিল তাদের কথা তুলে ধরা হয়েছে। বইটি কালোত্তীর্ণ হবে। 

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশে এমন যুগ গেছে যখন পড়ালেখা না করেই ৯০ শতাংশ পাস। লাইব্রেরিতে বইয়ের উপর ধূলা জমেছে, পড়ার লোক নেই। ভোট ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়া যায় এ কথা কেউ ভাবেওনি কিন্তু তাই হয়েছে। সেইসব অন্ধকার পেরিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হলো, তারপর নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। বই মুহূর্তে এমন একটি অসাধারণ বই প্রকাশিত হয়েছে। প্রকশনার মতো নিরানন্দ অনুষ্ঠান আজ উৎসবে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, রাজনীতির সদরে অন্দরে বইটি বোঝা যায় মারুফ কামাল একজন কবি কিন্তু অসমাপ্ত কবি, একজন সাহিত্যিক কিন্তু অসমাপ্ত সাহিত্যিক। তার লেখাটি সুখপাঠ্য হবে। সারাদেশে আমাদের লাইব্রেরি রয়েছে। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের লাইব্রেরি আছে। প্রত্যেকটা লাইব্রেরিতে আমরা বইটি রাখবো।  

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, মারুফ কামাল খানের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং দেশ-জাতি-সমাজ-রাজনীতি সম্পর্কে আমাদের চিন্তা অনেক কাছাকাছি। আমাদের পারস্পারিক সান্নিধ্য খুব ভালো। তিনি বলেন, রাজনীতির সদরে- অন্দরে বইটি থেকে রস আহরণ নির্ভর করবে পাঠকের চাহিদার উপর। তারা কোন দিকটি নিবেন। বইটি সুখপাঠ্য ছাড়াও সংগ্রহে রাখার মতো দলিল।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে যখন তিনি কাজ করেছিলেন তখন মারুফ কামাল ছিলেন নির্ভরযোগ্য অপেক্ষার স্থান। তার আপ্যায়ন এবং হাস্য কৌতুকের মধ্যমণি ছিলেন তিনি। তিনি তার স্মৃতির ভাণ্ডার থেকে রাজনীতির সদরে অন্তরে যা যা দেখেছেন সেখানে অনেক চরিত্র এসেছে, অনেক ঘটনা এসেছে। অনেক পরিস্থিতি এসেছে তা তিনি বইয়ে লিখেছেন। সেখান থেকে রস আস্বাদন করা এবং সেখান থেকে জ্ঞান আহরণ করা দুটোই নির্ভর করবে পাঠকের উপর। কোন পাঠক কোন মাপের চশমা দিয়ে বই পাঠ করছেন এবং কতটা গভীর মনোযোগ থেকে বইটা পাঠ করছেন।

তিনি বলেন, বইটি পড়লে রাজনীতির ধারা বেরিয়ে পড়ে। রাজনীতির সঙ্গে ক্ষমতা, ভৃত্ত সব কিছু বেরিয়ে আসে। মহাভারত, ওডিসিতে মানুষের বিভিন্ন চরিত্র তুলে ধরা হয়েছে তেমনি রাজনীতির সদরে-অন্দরেও বইটিতে তা তুলে ধরা হয়েছে।

অধ্যাপক আবু সাঈদ বলেন, আমাদের দেশে ১৮ কোটি মানুষ হলেও বই বিক্রি হয় এক হাজার দু হাজার। বইটির প্রচার কামনা করছি। আর বাঙালির আমি তত্ত্ব শেষ করে যখন আমরা হবো তখন উন্নতি হবে। কেননা আমিত্বের সাথে থাকে অহংকার, দম্ভ। লেখকের জন্য বই হচ্ছে সন্তানের মত। রাজনীতির সদরে-অন্তরে বইটিও তেমনি। তিনি আমিত্ববাদের বাইরে সাবলীলভাবে লিখেছেন।

সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস বলেন, যে বাংলাদেশের জন্য মানুষ মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ দিয়েছে সেই বৈষম্যহীন বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন দেখেন মারুফ কামাল খান।

আব্দুল হাই শিকদার বলেন, বইটির গুরুত্ব বোঝাতে বইটিতে ঢুকলেই হবে। বইটি সাংবাদিকতা ও কবিত্বের সংমিশ্রণে মোড়ানো। মারুফ কামাল খানের কবিতা বইয়েরও প্রসংশা করে তিনি বলেন, তার লেখায় অনেক কিছু ফুটে উঠেছে। তা ছাড়া রাজনীতির সঙ্গে সাংবাদিকদের অনেক লেখা রয়েছে। ভাষানী যখন ইউরোপে বইটিও অসাধারণ। আবুল মনসুর আহমদের আমার দেখা রাজনীতির ৫০ বছর, এবিএম মুসার মুজিব ভাই। এসব বইগুলোর মধ্যে মারুফ কামালের রাজনীতর সদরে-অন্দরে বইটিও যোগ হলো।  

সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, বই প্রকাশ করলে এক সময় সেটি ইতিহাস হয়ে থাকে। সোহেল ভাই (মারুফ কামাল) খুবই আড্ডাপ্রিয় মানুষ। তিনি নানা বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। তার লেখাও খুব ভালো। 

মারুফ কামাল খান বলেন, আপনারা এখন বিচারক, আমি কাঠগড়ায়। আপনাদের কথা শুনে উৎসাহিত হয়েছি, ভবিষ্যতে আরো ভালো কিছু লেখতে পারবো। সালেহ শিবলী বলেন, আগামীতে আরো ভালো বই লেখবেন। তার মেধা খুবই তীক্ষ। 

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম বলেন, বইটি রাজনৈতিক ফর্মের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরা হয়েছে।  

আব্দুল গাফফার চৌধুরী ও মারুফ কামাল খানের লেখার ভক্ত উল্লেখ করে কাদের গণি চৌধুরী বলেন, চৌধুরীর লেখায় সত্য মিথ্যার সংমিশ্রণ থাকে কিন্তু মারুফ কামাল খানের লেখাতে শুধু সত্য থাকে। তিনি বলেন, বইটি পাঠকের সামনে রাজনীতির অনেক তথ্য তুলে ধরেছে। বিশেষ করে প্রথম লেখাটি একটি বিবৃতি দিয়ে শুরু। কেননা ১/১১ এ শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হলে খালেদা জিয়া মারুফ কামাল ও শিমুল বিশ্বাসকে একটি বিবৃতি দিতে। 

সালেহ শিবলী বলেন, বইটিতে রাজনীতির ধারাবাহিকতা না থাকলেও প্রতিটি লেখার মধ্যে যোগসূত্র পাওয়া যায় যাবে।

তিনি বলেন, আমরা বই পড়ছি না। সামাজিক মাধ্যমে না থেকে বইগুলো পড়লে রাজনীতিতে ভালো কিছু হবে। তিনি বলেন, বই না পড়লে, রাজনীতির দু একটা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে চলবে না। 

সালেহ শিবলী বলেন, ২০১৪ সালের ১৬ জুলাই তারেক রহমান বলেছিলেন বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে কোটা ৫৬ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন হলো, ২০২৪ সালে সেই কোটার আন্দোলন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন হলো। অর্থাৎ এসব কথা সেমিনারে হলেও কেউ কেউ না লেখে রাখে।

সাঈদ বারী বলেন, বর্তমানে প্রকাশনা শিল্প খুবই নাজুক অবস্থার ভিতর দিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে এ শিল্পের উন্নয়নে মনোযোগ দিতে হবে।
সাহিত্য- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি, লাভ রোড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত