প্রতিষ্ঠার পাচ বছর পর প্রাতিষ্ঠানিক রূপের পথে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

উমর ফারুক

শিক্ষা

প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ প্রায় পাচ বছর পর অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষা কার্যক্রম প্রসারের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে

2026-09-21T19:44:50+06:00
2026-09-21T20:31:14+06:00
সোমবার ● ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৬ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
শিক্ষা
এই বিশ্ববিদ্যালয় হবে উত্তরাঞ্চলের কৃষি গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি শিক্ষার কেন্দ্র: ভিসি
প্রতিষ্ঠার পাচ বছর পর প্রাতিষ্ঠানিক রূপের পথে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
উমর ফারুক
প্রকাশ: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৪ পিএম  আপডেট: ২১.০৯.২০২৬ ৮:৩১ পিএম 
ছবি-যাযাদি
প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ প্রায় পাচ বছর পর অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষা কার্যক্রম প্রসারের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে শুরু করেছে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২১ সালের ২২ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করলেও বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৪ সালে। বর্তমানে দুটি অনুষদে (কৃষি ও মৎস্য) তিনটি ব্যাচে মোট ২৪০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। ২০২৪ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সচল করেন উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি নিয়ে তিনি জানান, শুরুতেই ৪০ জন করে দুটি ব্যাচে মোট ৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের শুভ সূচনা করা হয়। দূরদূরান্ত থেকে আসা প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে একটি ছাত্রনিবাস ও একটি ছাত্রীনিবাস ভাড়া নিয়ে আবাসনের সুব্যবস্থা করা হয়েছে। উপাচার্য আরও জানান, কুড়িগ্রামের চরাঞ্চল কৃষির জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। চরাঞ্চলের কৃষিকে বৈজ্ঞানিক রূপ দিতে শিক্ষার্থীদের মাঠপর্যায়ে নিয়ে গিয়ে হাতে-কলমে ব্যবহারিক শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমন্বয়ে পাঠদান পরিচালিত হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দুটি ভাড়া ভবনে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম চলছে। নতুন তৃতীয় ব্যাচের ল্যাব ও একাডেমিক সুবিধা বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ইউজিসির প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে স্থান পরিদর্শন করে অতিরিক্ত দুটি ভবন ভাড়ার সম্ভাব্য যাচাই শেষ করেছে। একই সঙ্গে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩০ জন অস্থায়ী জনবল ও আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় ১৮ জন কর্মচারী কাজ করছেন। খুব শীঘ্রই স্থায়ী জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। উত্তরাঞ্চলকে কেন্দ্র করে সরকারের সমন্বিত কৃষি হাব গড়ে তোলার যে পরিকল্পনা রয়েছে, তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় দক্ষ কৃষিবিদ তৈরিতে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
“কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ড. মুহ. রাশেদুল ইসলামের একান্ত আলাপচারিতায় উঠে আসে অনেক তথ্য। নিম্নে তুলে ধরা হলো...  
“কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হবে উত্তরাঞ্চলের কৃষি গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি শিক্ষার কেন্দ্র”
উত্তরাঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ এবং আধুনিক কৃষি গবেষণার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে রেখে যাত্রা শুরু করেছে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। নবগঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, গবেষণানির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে কাজ করে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহ. রাশেদুল ইসলামের দায়িত্ব নেয়ার পর ২০২৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। তাঁর নেতৃত্বে অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম, গবেষণা সহযোগিতা, আবাসন সুবিধা, প্রশাসনিক সংস্কার, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে দৃশ্যমান অগ্রগতি এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সামগ্রিক ভাবনা নিয়ে উপাচার্যের কথা বলেছেন কৃষিবিদ মোঃ আব্দুল মান্নান।

প্রশ্ন: উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আপনার মূল ভাবনা কী ছিল?

উপাচার্য: ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শুরু থেকেই আমার লক্ষ্য ছিল কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি গবেষণাভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং বাস্তবমুখী কৃষি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা। কুড়িগ্রাম একটি কৃষিনির্ভর অঞ্চল হওয়ায় এখানে চরাঞ্চল, বন্যা, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে চাই, যা সরাসরি কৃষক, কৃষি ও স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে কাজ করবে।

প্রশ্ন: দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কী ধরনের অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করেন?

উপাচার্য: উপাচার্য হিসেবে আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে সুসংগঠিত এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছি। এরই ধারাবাহিকতায় নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে কৃষিগুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্তর্ভুক্ত করে প্রথমবারের মতো সফলভাবে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হয় এবং এতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। ফলে উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থী ও অভিভাব উভয়েরই সময় এবং ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমবার কৃষিগুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিলেও নিজস্ব ভর্তি কেন্দ্র ছিলো না। 

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি ব্যাচের একাডেমিক কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম ব্যাচটি লেভেল ২; সেমিস্টার ১, দ্বিতীয় ব্যাচ লেভেল ১; সেমিস্টার ২, তৃতীয় ব্যাচ লেভেল ১; সেমিস্টার ১, এ অধ্যায়ন করছে। প্রথম ব্যাচ ইতোমধ্যে সফলভাবে প্রথম ও দ্বিতীয় সেমিস্টার সম্পন্ন করে তৃতীয় সেমিস্টারে অধ্যায়ন করছে। তাদের একাডেমিক ফলাফল প্রত্যাশার চেয়েও উন্নত হয়েছে। প্রথম সেমিস্টারে ফিশারিজ ও এগ্রিকালচার অনুষদের গড় ফলাফল যথাক্রমে ৩.৯৩৮ এবং ৩.৯৮৫ (৪.০০-এর মধ্যে), যা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মানের ইতিবাচক প্রতিফলন। প্রথম ব্যাচের লেভেল ২; সেমিস্টার ১ এর ফাইনাল পরীক্ষা অক্টোবর মাসের ৪ তারিখ থেকে শুরু হবে এবং দ্বিতীয় ব্যাচের লেভেল ১;সেমিস্টার ২ এর ফাইনাল পরীক্ষা সেপ্টেম্বর মাসের ২৭ তারিখ থেকে শুরু হবে। নবপ্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের অতিথি শিক্ষক হিসেবে এনে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যবহারিক শিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে নিয়মিত পাঠদান, মাঠভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং গবেষণানির্ভর শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে। 

সেশনজটমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার লক্ষ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য একটি সমন্বিত একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির অনুমোদনক্রমে দুটি আবাসিক ভবন ভাড়া নেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি পড়াশোনায় অধিক মনোযোগী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পুরো ক্যাম্পাসকে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে এবং একই সঙ্গে একটি সমৃদ্ধ ই-লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান রয়েছে। এটি চালু হলে শিক্ষার্থীরা সহজেই প্রয়োজনীয় তথ্য ও পাঠ্যসামগ্রী ব্যবহার করতে পারবে এবং গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডে আরও কার্যকরভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে Food and Agriculture Organiæation (FAO) Ges Charles Sturt University-এর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এসব উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী। এছাড়া কৃষি গবেষণার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণেSoutheast Bank PLC বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি বিশেষ গবেষণা অনুদান প্রদান করেছে। একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বগুণ, সৃজনশীলতা এবং ব্যক্তিত্ব বিকাশের লক্ষ্যে রোভার স্কাউট, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব এবং ডিবেটিং সোসাইটিসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। এ লক্ষ্যে নিয়োগ বাছাই বোর্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট পুনর্গঠন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে ধূমপান, মাদক ও র‌্যাগিংমুক্ত একটি সবুজ (Green) ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

প্রশ্ন: বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নিয়ে কী পরিকল্পনা রয়েছে?

উপাচার্য: একটি পরিবেশবান্ধব, আধুনিক ও গবেষণামুখী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে স্থায়ী ক্যাম্পাসের কোনো বিকল্প নেই। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কাজগুলোর একটি। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও সমন্বয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমরা আশা করছি, দ্রুতই স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের প্রক্রিয়া দৃশ্যমান অগ্রগতি লাভ করবে। স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠিত হলে সরকারের ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি সবুজ, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব গ্রীন ক্যাম্পাস গড়ে তোলা হবে। সেখানে থাকবে স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ, অত্যাধুনিক গবেষণাগার, সমৃদ্ধ কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, মানসম্মত শিক্ষার্থী আবাসন, আধুনিক আইসিটি সুবিধা এবং কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের অবকাঠামো। আমাদের লক্ষ্য শুধু দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো নির্মাণ নয়; বরং এমন একটি সমন্বিত জ্ঞানকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দক্ষ কৃষিবিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্যোক্তা তৈরিতে এই স্থায়ী ক্যাম্পাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

প্রশ্ন: গবেষণার ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে?

উপাচার্য: উত্তরাঞ্চলের কৃষি বাস্তবতা বিবেচনায় আমরা চরাঞ্চলভিত্তিক কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা, খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন নিয়ে গবেষণাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সরাসরি কৃষকের কাজে লাগুক এবং মাঠপর্যায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনুক। কৃষিকে লাভজনক ও টেকসই করতে গবেষণার বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক সিন্ডিকেট সভায় কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে চারটি বিশেষায়িত গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো— চর এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট, ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ফ্রেশওয়াটার ফিসারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং ভেজিটেবলস অ্যান্ড ফ্রুটস রিসার্চ ইনস্টিটিউট।

প্রশ্ন: বিশ্ববিদ্যালয়ের জনবল নিয়োগ ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে?

উপাচার্য: একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান শক্তি তার দক্ষ, যোগ্য ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারী। এ কারণে আমরা স্বচ্ছতা, মেধা, যোগ্যতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে জনবল নিয়োগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শূন্য পদেও নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। শুধু জনবল নিয়োগেই আমাদের লক্ষ্য সীমাবদ্ধ নয়। নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ, গবেষণায় সম্পৃক্ততা এবং আধুনিক উচ্চশিক্ষা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি দক্ষ, কর্মদক্ষ, উদ্ভাবনী ও দায়িত্বশীল মানবসম্পদ গড়ে তোলা, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক উৎকর্ষ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

প্রশ্ন: শিক্ষার্থীদের জন্য আপনার বার্তা কী?

উপাচার্য: আমি মনে করি, শিক্ষার্থীদের এখন আর শুধু পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। তাই শিক্ষার্থীদের কেবল ভালো ফলাফল অর্জনের মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; তাদের দক্ষ, সৃজনশীল, মানবিক, নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন এবং গবেষণামুখী কৃষি পেশাজীবী হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের কৃষিবিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষক, উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারক। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, টেকসই কৃষি উন্নয়ন এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার আহ্বান, তারা যেন জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তির ব্যবহার, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা বিকাশে নিজেদের প্রস্তুত করে। সততা, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষকে ধারণ করে এগিয়ে গেলে তারা শুধু কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, বরং দেশ ও জাতির গর্বিত সম্পদে পরিণত হবে। বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে।

প্রশ্ন: আগামী পাঁচ বছরে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে কোথায় দেখতে চান?

উপাচার্য: আমি চাই আগামী পাঁচ বছরে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উত্তরাঞ্চলের কৃষি গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হোক। এই বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি প্রতিষ্ঠানে রূপ নেবে, যার গবেষণা, শিক্ষা ও উদ্ভাবন জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিতি লাভ করবে। 

প্রশ্ন: আপনার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে যদি কিছু বলেন?

উপাচার্য: ব্যক্তিগত জীবনে আমি সবসময় সততা, দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা এবং নৈতিক মূল্যবোধকে ধারণ করে চলার চেষ্টা করেছি। আমার বিশ্বাস, একজন শিক্ষকের প্রকৃত পরিচয় তাঁর জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, কর্মনিষ্ঠা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়বদ্ধতার মধ্যেই নিহিত। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছি। কিন্তু প্রতিটি অভিজ্ঞতা আমাকে আরও পরিণত করেছে এবং দায়িত্ব পালনে অধিক দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। আমি সবসময় বিশ্বাস করি, প্রতিকূলতা মানুষকে থামিয়ে দেওয়ার জন্য নয়; বরং আরও ভালোভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা হিসেবে কাজ করে। 

পেশাগত জীবনে শিক্ষকতা, গবেষণা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুযোগ হয়েছে। রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), ছাত্র উপদেষ্টা, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, সহকারী হল প্রভোস্টসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছি। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষক, কৃষিবিদ ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে শিক্ষা, গবেষণা এবং পেশাগত উন্নয়নে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। এসব অভিজ্ঞতা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা, নীতিনির্ধারণ, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়তা করছে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে আমি পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, মেধা ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করি। আমার কাছে বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। শিক্ষা ও গবেষণার সমন্বয়ের মাধ্যমে এখান থেকেই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি হবে—এটাই আমার প্রত্যাশা। তাই দল, মত বা ব্যক্তিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণকে আমি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চাই।

উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. মুহ. রাশেদুল ইসলাম ছাত্রজীবনে জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীকালে শিক্ষকতা জীবনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক, ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সদস্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে গঠিত কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক এবং এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে দেশব্যাপী ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে ঢাকা দক্ষিণ এবং উত্তর সিটি কর্পোরেশনের জন্য গঠিত ছয় সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে তিনি বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন।
শিক্ষা- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত