ছবি-যাযাদি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলা ও ক্যাম্পাসসংলগ্ন বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকা এবং প্রধান ফটকের সামনে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফীন ও যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন অনিকের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।
আহতরা হলেন- অর্থনীতি বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাদুদ, লোকপ্রশাসন বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইমন এবং বাংলা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন ইমন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাহাদুর শাহ পার্কের একটি চায়ের দোকানের পাশে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে কাঁঠালতলা এলাকায় রড ও পাইপ নিয়ে তাদের সংঘর্ষে জড়াতে দেখা যায়। তাছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনেও দেখা যায়।
শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন অনিক বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ঘোষিত কর্মসূচি পালন করে তারা বাহাদুর শাহ পার্কে অবস্থান করছিলেন। এ সময় শামসুল আরেফীনের অনুসারীরা রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা করেন। এতে কয়েকজন আহত হন। অর্থনীতি বিভাগের মাদুদের হাতে পাঁচটি সেলাই লেগেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
পরে পাল্টা প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা সরে যায় বলে দাবি করেন নাহিয়ান।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে নাহিয়ান বিন অনিকের দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পোস্টটি শামসুল আরেফীনকে উদ্দেশ করে দেওয়া হয়েছিল, এমন আলোচনা থাকলেও তা অস্বীকার করেছেন নাহিয়ান।
তিনি বলেন, ‘আমি সেখানে কারও নাম উল্লেখ করিনি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে পুঁজি করে যারা শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন, তাদের বুঝিয়েছি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আজম খান বলেন, ‘দুই গ্রুপের নাম আমি জানি না। তবে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আমরা পুলিশ ডেকে নিয়ে আসছি।’ তিনি বলেন, উল্লেখ করার মতো কেউ আহত হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সামসুল আরেফিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।