পার্বত্য কমিটির বিরোধিতা পাহাড়ের নৈরাজ্য জিইয়ে রাখার পুরনো কৌশল: সচেতন নাগরিক সমাজ

জাতীয়

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের নতুন তিনটি কমিটি গঠনকে ঘিরে একটি মহলের বিভ্রান্তিকর ও অসত্য বিবৃতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের ‘সচেতন

2026-09-22T16:36:56+06:00
2026-09-22T16:36:56+06:00
বুধবার ● ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৮ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
জাতীয়
পার্বত্য কমিটির বিরোধিতা পাহাড়ের নৈরাজ্য জিইয়ে রাখার পুরনো কৌশল: সচেতন নাগরিক সমাজ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৬ পিএম  
সংগৃহীত ছবি
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের নতুন তিনটি কমিটি গঠনকে ঘিরে একটি মহলের বিভ্রান্তিকর ও অসত্য বিবৃতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’। এক যৌথ বিবৃতিতে বিশিষ্ট নাগরিকেরা দাবি করেছেন, সরকারের এই গঠনমূলক প্রশাসনিক পদক্ষেপকে তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা অহেতুক ‘সামরিকায়ন’ বা ‘আমলাতান্ত্রিক ও কর্তৃত্ববাদী’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। এই অপচেষ্টা মূলত পার্বত্য অঞ্চলে নৈরাজ্য ও অস্থিরতা জিইয়ে রাখার পুরনো কৌশল এবং স্থায়ী শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে চরম অন্তরায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার সম্প্রতি ১০ সেপ্টেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি, নির্বাহী কমিটি ও পরামর্শক কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো পাহাড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি ঘটানো, গুম-খুন রোধ করা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পার্বত্য তিনটি আসন থেকেই জনগণের রায় পাওয়ার পর সেই জনআকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানিয়েই সরকার এই প্রশাসনিক সংস্কারে হাত দিয়েছে।

নাগরিক সমাজ স্পষ্ট করেছে যে, জাতীয় প্রবিধানভুক্ত সংস্থাসমূহকে সচিবালয় সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত ও তথ্যভিত্তিক সহায়তা প্রদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেবল শান্তি বিনষ্টকারী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, অস্ত্র চোরাচালান ও বহিঃশত্রুর নানাবিধ তৎপরতা নস্যাৎ করার জন্য। এর সাথে সাধারণ উপজাতি জনগোষ্ঠীর নাগরিক সুবিধা হরণ বা রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব সংকুচিত করার কোনো দূরভিসন্ধি সরকারের নেই। অথচ ৫২ জনের একটি তথাকথিত মহল বিষয়টিকে ঘিরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অসত্য তথ্য ছড়াচ্ছে, যা পাহাড়ের স্থায়ী শান্তির পরিপন্থী।

আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে এই পরামর্শক ও নির্বাহী কমিটি স্থানীয় উন্নয়ন, অবকাঠামোগত অগ্রগতি, নিরাপত্তা বৃদ্ধি, প্রচলিত আইন পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে সরকারের কাছে চূড়ান্ত সুপারিশ পেশ করবে। একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা হলে পাহাড়ের অর্থনীতি বহুগুণ সমৃদ্ধ হবে বলে বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করা হয়।

দারুসসালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আসিফ মিজান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, সাবেক ডেপুটি এটর্নী জেনারেল ড. গোলাম রহমান ভূঁইয়া এবং সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক লে. কর্নেল (অব.) খন্দকার ফরিদুল আকবর, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসিনুর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. আবু তৈয়ব চৌধুরী, আরবী বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইউনুছ এবং সাবেক ডেপুটি  অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুল বাসেতসহ দেশের ১০২ জন বিশিষ্ট নাগরিক এই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন। 

সচেতন নাগরিক সমাজের পার্বত্য চট্টগ্রামের আহ্বায়ক কাজী মো. মজিবর রহমান স্বাক্ষরিত এই বিবৃতিতে পাহাড়ে পুনরায় অস্থিতিশীলতা তৈরি না করে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটিগুলোকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
  বিষয়:   পার্বত্য কমিটি  পাহাড়  নাগরিক সমাজ 


জাতীয়- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত