ছবি- যাযাদি জলবায়ু ন্যায়বিচার, নিরাপদ সুপেয় পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির বার্তা নিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের উদ্দেশ্যে পায়ে হাঁটছেন হাইকার ও পরিবেশকর্মী মাসফিকুল হাসান টনি (২৯)। ‘বাংলাদেশ কোস্টাল ট্রাভার্স’ নামের এ অভিযানে ৩০১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের শিশুবাগান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছান তিনি।
বিদ্যালয়ে পৌঁছে শিশুদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান টনি। পরে দুপুর ১২টার দিকে চরমোন্তাজ থেকে চরবাংলার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। তাঁর আজকের গন্তব্য ভোলার চরফ্যাশন।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় এলাকা থেকে এ পদযাত্রা শুরু করেন টনি। প্রায় ৭৫০ কিলোমিটারের এ দীর্ঘ অভিযানের লক্ষ্য টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে পৌঁছানো। উপকূলের প্রকৃতি, পরিবেশ, মানুষের জীবন-জীবিকা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কাছ থেকে দেখা এবং এসব বিষয়ে সচেতনতা তৈরিই এ অভিযানের উদ্দেশ্য।
টনি বলেন, ‘আমি এই অভিযান শুধু অ্যাডভেঞ্চারের জন্য করছি না। জলবায়ু ন্যায়বিচার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সুপেয় পানির দাবিকে সামনে রেখে উপকূলের মানুষের সঙ্গে কথা বলতে চাই।’
তিনি বলেন, উপকূলের অনেক এলাকায় সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে মানুষের পানির চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছে। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয় বলে মনে করেন তিনি। এ বিষয়ে সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে টনি বলেন, উপকূলীয় এলাকায় জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রভাব নিয়েও মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন তিনি। তাঁর দাবি, স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দাদের কাছ থেকে বিভিন্ন নদীতে মাছ কমে যাওয়ার কথা শুনেছেন।
টনি আরও বলেন, ‘সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, সেগুলোকে আমি সাধুবাদ জানাই। তবে শুধু উদ্যোগ নিলেই হবে না, যত দ্রুত সম্ভব সেগুলোর বাস্তবায়ন দেখতে চাই।’
নদী ও মানুষের জীবন-জীবিকার সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, নদী শুধু পানি প্রবাহের জায়গা নয়। নদীর সঙ্গে জেলে, নৌকা, জাল, মাছের আড়ত, বাজারসহ উপকূলের বহু পরিবারের জীবন-জীবিকা জড়িত। তাই নদীর স্বাস্থ্য ও মানুষের জীবিকার বিষয়টি উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাওয়া দরকার।
নাটোরের বনপাড়ার বাসিন্দা টনি পেশায় বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক। ২০১৯ সাল থেকে দীর্ঘপথে হাইকিং করছেন তিনি। এর আগে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, ভোমরা থেকে সাকা হাফং এবং রৌমারী থেকে চর কুকরিসহ বিভিন্ন দীর্ঘপথের অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
এবারের ‘বাংলাদেশ কোস্টাল ট্রাভার্স’ অভিযানে উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকা, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি জলবায়ু ন্যায়বিচার, নিরাপদ সুপেয় পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রয়োজনীয়তার বার্তা ছড়িয়ে দিতে চান টনি।