ইসরায়েলি নির্মাতা র্যাচেল জোর ও ইউভাল আব্রাহামইসরায়েলি হয়েও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সিনেমা নির্মাণ করবেন নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল জোর। তাদের নির্মাণে ফিলিস্তিনের গাজা নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র ‘নো আদার ল্যান্ড’ জিতে নিয়েছিল অস্কার। গাজা জেনোসাইড নিয়েই তারা ফের নির্মাণ করেন নতুন প্রামাণ্যচিত্র ‘নাজা’।
দিন কয়েক আগে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রায় ২৫ মিনিটের দীর্ঘ করতালিতে যে ফিল্মটি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছিল, পেয়েছিল ‘স্পেশাল জুরি প্রাইজ’, এবার সেটিই পৌঁছেছে নিউইয়র্কে। গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ছবিটির প্রিমিয়ার হয়।
সিনেমাটি পৃথিবীর যেখানে, যতবার প্রিমিয়ার হয়েছে; ততবারই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, গাজায় গণহত্যার নেপথ্যে ভয়ংকর সব বিষয় উঠে এসেছে তাতে। গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর নারকীয় তাণ্ডব, সামরিক অপকর্ম এবং এতে মার্কিন প্রশাসনের অর্থায়নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। ফলে ইসরায়েল-আমেরিকার রসায়ন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গণহত্যা বিতর্ক চাউর হয়।
নির্মাতাদ্বয় যে ফিল্মটি নির্মাণ করে সফল, তা বলাই বাহুল্য। ইতোমধ্যে সিনেমাটিকে নিয়ে মন্তব্য করেছে স্বয়ং নেতানিয়াহু। চলচ্চিত্রকে ‘ইহুদি বিদ্বেষী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ইসরায়েলের সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহর নির্মাতাদের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি দিয়েছেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, ইসরায়েলি হয়েও এমন ঝুঁকি নিয়ে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সিনেমা নির্মাণের নেপথ্যে নির্মাতাদের চিন্তা কেমন ছিল?
নিউইয়র্ক উৎসবেই দিয়েছেন নির্মাতারা; তা আবার সিনেমাটি প্রদর্শনীর পর। ইসরায়েলের অন্যতম মিত্র এই দেশে বসেই, সকলের সামনে নেতানিয়াহুর গণহত্যা, আমেরিকার তাতে সরাসরি সংশ্লিষ্টতা নিয়েও কথা বলেন।
নির্মাতাদের দাবি, শুধু দর্শকের প্রতিক্রিয়া পাওয়াই নয়, ‘নাজা’ তথ্যচিত্রের নির্মাতাদের লক্ষ্য আরও বড়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে মার্কিন সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আলোচনা জোরদার করা এবং আসন্ন ইসরায়েলি নির্বাচনের আগে দেশটির সমাজেও নতুন করে প্রশ্ন তোলা ছিল তাদের লক্ষ্য।
নিউইয়র্কে প্রদর্শনীর পর দর্শকদের সঙ্গে আলোচনায় ইউভাল আব্রাহাম স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ছবিটি দেখানোর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যই বড় প্রেরণা। তার ভাষায়, ‘আমাদের জন্য এটাই প্রধান প্রেরণা।’ এরপর তিনি ছবিটির শেষ বার্তার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘এই অপরাধগুলো এখনো চলছে—শুধু আমাদের দেশই এটি করছে বলে নয়, আপনাদের দেশও (আমেরিকা) এটিকে সমর্থন ও অর্থায়ন করছে।’
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের জবাবে আব্রাহাম বলেন, ‘নেতানিয়াহু এই ছবিকে ক্ষেপণাস্ত্রের সাথে তুলনা করেছেন; আর আপনারা তো জানেনই যারা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে, তাদের পরিণতি কী হয়!’
র্যাচেল জোর স্পষ্ট করেন, ইসরায়েলের সাধারণ জনগণের চোখে এই গণহত্যাকে আড়াল করার যে সংস্কৃতি চলছিল, সেটি ভাঙাই ছিল তাদের অন্যতম লক্ষ্য।