মাহফুজ আনাম জেমস‘নগর বাউল’ খ্যাত মাহফুজ আনাম জেমসের জন্মদিন আজ (২ অক্টোবর)। জীবনের বিশেষ দিনটি উপলক্ষে খোলামেলা কথা বলেছেন এ ব্যান্ড তারকা।
জেমস জন্মদিনের ব্যাপারে বলেন, জন্মদিন একটাই, তুমি যেদিন জন্মেছ। তারপর এগুলো তো আর জন্মদিন নয়। যেদিন জন্মেছ, আর যেদিন মৃত্যু হবে সেদিন মৃত্যুদিন- দুইটাই আছে। আমি কোনো সমাজ বদল করার জন্য আসিনি। সমাজকে আনন্দ দেয়ার জন্য এসেছি। মানুষ তো বারবার জন্ম নেয় না। তাই বলব, জন্মদিন একটাই। আর আমি কোনো দিনই এভাবে বিশেষভাবে জন্মদিন উদযাপন করি না। এমনিতেই পরিবারের সঙ্গে থাকি, সময় কাটাই।
এ তারকা সংগীত ও সংস্কৃতির পরিবর্তন নিয়ে নিজের ভাবনাও তুলে ধরেন। তার ভাষ্যমতে―অনেক আর্ট ফার্ম হারিয়ে গেছে। এর মধ্যে আবার কিছু আর্ট ফার্ম এখনো আছে, যেগুলো মানুষ প্যাশন থেকে, ভালোবাসা থেকেই ধরে রেখেছে।
তিনি বলেন, গান বানিয়েছে, মানুষ গান শুনবে, গাইবে। পথে-ঘাটে নিজের ইচ্ছামত গাইবে, নিজের মতো করে গাইবে। সংস্কৃতি হচ্ছে নদীর মতো, এটা বয়ে চলবে। বাধা দিলে বরং বাধাগ্রস্ত হবে। যে যার গান করে যাচ্ছে, করুক। আর গান তো বানানোই হয়েছে তা মানুষকে শোনানোর জন্য এবং গাওয়ার জন্য।
প্রসঙ্গত, ১৯৬৪ সালের ২ অক্টোবর নওগাঁয় জন্মগ্রহণ করেন মাহফুজ আনাম জেমস। নওগাঁয় জন্ম হলেও তার বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে। সংগীতের প্রতি তীব্র টান থেকে পরিবারের সঙ্গে মতবিরোধের একপর্যায়ে ঘর ছাড়েন। তারপর চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিংয়ে তার সংগীতজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয়। আর সেই অধ্যায় এখনো চলছে।
এরপর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ‘লেইস ফিতা লেইস’, ‘নগর বাউল’, ‘দুষ্টু ছেলের দল’, ‘পালাবে কোথায়’, ‘দুঃখিনী দুঃখ করো না’, ‘আমি তোমাদেরই লোক’ ও ‘কাল যমুনা’র মতো অ্যালবাম উপহার দিয়েছেন জেমস। জনপ্রিয় গানের তালিকায় রয়েছে ‘তারায় তারায়’, ‘সুলতানা বিবিয়ানা’, ‘সুস্মিতার সবুজ ওড়না’, ‘হতেও পারে এই দেখা শেষ দেখা’, ‘কবিতা তুমি স্বপ্নচারিণী’, ‘দিদিমনি’, ‘বাবা কত দিন দেখি না তোমায়’, ‘গুরু ঘর বানাইলা কী দিয়া’, ‘লিখতে পারি না কোনো গান’ ও ‘এক নদী যমুনা’র মতো অসংখ্য গান।