সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ ইবন ধাফের ইবন উবাইয়ার সৌজন্য সাক্ষাৎ২০২৭ সালের হজযাত্রী পরিবহনে ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে প্রতিদিন তিনটি করে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে স্লট চেয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আগামী ২৮ মার্চ থেকে ৩০ অক্টোবর ২০২৭ পর্যন্ত এসব ফ্লাইট পরিচালনার জন্য স্লটের আবেদন করা হয়েছে। হজের ফ্লাইট সূচি চূড়ান্ত করতে দ্রুত স্লট অনুমোদনে সৌদি আরবের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।
একই সঙ্গে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ওপর আরোপিত কর ও বিভিন্ন চার্জের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (০১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ ইবন ধাফের ইবন উবাইয়ার সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে দুই দেশের বিমান চলাচল, হজযাত্রী পরিবহন, এয়ার সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্ট (এএসএ), পর্যটনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
২০২৭ সালের হজে বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জনের হজ পালনের কোটা রয়েছে। তিন এয়ারলাইন্সের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৫০ শতাংশ, সৌদিয়া ৩৫ শতাংশ এবং ফ্লাইনাস ১৫ শতাংশ হজযাত্রী পরিবহন করবে। এ হিসাবে বিমানের অংশ প্রায় ৩৯ হাজার ২৫০ জন। তবে চূড়ান্ত সংখ্যা দ্বিপাক্ষিক হজ চুক্তির পর নির্ধারিত হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ওপর আরোপিত কর ও চার্জের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। গত ১৩ জুলাইয়ের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল উল্লেখ করে মন্ত্রী বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তিতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চান।
এদিকে দুই দেশের এয়ার সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্ট নিয়েও অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। মন্ত্রী জানান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) বর্তমানে চুক্তির খসড়া প্রস্তুতের কাজ করছে। খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার পর চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সৌদি এয়ারলাইনস ফ্লাইঅ্যাডিলের অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার অনুরোধ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সক্ষমতা ও স্লট ব্যবস্থাপনা সীমিত থাকায় আপাতত অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান মন্ত্রী। তবে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি দাম্মাম ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে জানান তিনি।
২০২৬ সালের হজে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী সৌদি আরব যান। তিন এয়ারলাইন্সের প্রি-হজ ফ্লাইট ছিল ২০৭টি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১০২টি, সৌদিয়া ৭৫টি এবং ফ্লাইনাস ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করে।
হজ মৌসুম সামনে রেখে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি সরেজমিনে পরিদর্শনে সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলী মোহাম্মদ রাজাবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের ঢাকায় আসার আগ্রহের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিমান যোগাযোগ বাড়ানো এবং পর্যটন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।