নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক কর্মরত থাকার পরও অপেক্ষাকৃত জুনিয়র শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
নতুন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দায়িত্ব নেওয়ার পর দাপ্তরিক নথিপত্র পর্যালোচনায় এমন অসংগতি শনাক্ত হলে এক মাসের কিছু বেশি সময়ে ১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন করে দায়িত্ব পাওয়া জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের নাম সরকারি সফটওয়্যারেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে এন্ট্রি করা হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মোহনগঞ্জে মোট ৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩৪টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এসব বিদ্যালয়ে কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বিধি অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ে এ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে বলে নথিপত্র পর্যালোচনায় উঠে আসে। জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও তাঁদের চেয়ে জুনিয়র শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিষয়টি প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টন ও বিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি করে।
এ অবস্থায় নথিপত্র যাচাই করে প্রথম পর্যায়ে ১১টি বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। বিদ্যালয়গুলো হলো—সাতুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশুখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দৌলতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাইলোরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোনারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়তলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সামাইকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাঘান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সমাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের ফলে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কাঠামোতে শৃঙ্খলা ফিরবে। একই সঙ্গে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে তাঁর চেয়ে জুনিয়র সহকর্মীর অধীনে দায়িত্ব পালনের পরিস্থিতিও এড়ানো সম্ভব হবে।
মোহনগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ জুনায়েদ বৃহস্পতিবার বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর ফাইলপত্র পর্যালোচনা করতে গিয়ে কয়েকটি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অসংগতি দেখতে পান।
পরে ১১টি বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পরিবর্তন করে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করা হয়েছে। সফটওয়্যারেও তাঁদের নাম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে এন্ট্রি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আরও কোনো বিদ্যালয়ে এ ধরনের অসংগতি রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। কোথাও এমন পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী সেখানেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। নথিপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে এ ধরনের অসংগতি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।