প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৫ পিএম
সংগৃহীত ছবিলক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষের নারাজি আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। দীর্ঘ শুনানি শেষে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি রায়পুর আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রেজাউল হক এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল আহাদ শাকিল পাটওয়ারী।
মামলার বাদী রিনা আক্তারের অভিযোগ, ২০২৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর তাঁর স্বামী আবদুর রহিম রনিকে আটকের পর মারধর করা হয়। এ সময় তাঁর স্বামীর কাছে থাকা গরু বিক্রির ৯০ হাজার টাকা নিয়ে যান অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা। এ ঘটনায় একই বছরের ২৭ ডিসেম্বর আদালতে মামলা করেন তিনি।
মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব প্রথমে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার, পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং সর্বশেষ সিআইডি পালন করে। তবে তিন দফা তদন্তের প্রতিবেদনেই আপত্তি জানান বাদী।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে একাধিক ত্রুটি রয়েছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষিত হার্ডডিস্ক জব্দ না করা এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি যথাযথভাবে আমলে না নেওয়ার অভিযোগ তুলে আদালতে নারাজি আবেদন করেন বাদী। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে, পুলিশের দাবি ছিল, ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্র, কার্তুজ ও মাদকসহ আবদুর রহিম রনিকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলায় অভিযুক্ত সাত পুলিশ সদস্য হলেন—এসআই মো. আবু হানিফ (১), মো. আবু হানিফ (৩), মো. নুরুল ইসলাম, এএসআই সফিক মিয়া, সাখাওয়াত হোসেন এবং কনস্টেবল আতিক উল্যা ও ইউসুফ ঢালি।
আদালতের এ আদেশের ফলে মামলাটির তদন্তে নতুন করে বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধানের পথ খুলেছে।