ছবি: যাযাদিবিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, যে গণতন্ত্রের জন্য শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদ জীবন দিয়েছিলেন, সেই গণতন্ত্র ১৭ বছর মুখ থুবড়ে পড়েছিল। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আবারও আন্দোলন করতে হয়েছে। সেই আন্দোলনে তারেক রহমান নেতৃত্ব দিয়ে এক দফার আন্দোলনে পৌছান বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার নবগ্রামে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ ছাত্রদল নেতা নাজির উদ্দিন জেহাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আমান উল্লাহ আমান।
তিনি বলেন, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ জেহাদের মরদেহ সামনে রেখে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতাকর্মীরা শপথ নিয়েছিলেন, স্বৈরাচার এরশাদের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এরপরও দেশে গণতন্ত্র বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ইলিয়াস আলী ও সুমনসহ অনেকে গুম হয়েছেন। হাজারো ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে আবু সাঈদসহ অনেকে প্রাণ দিয়েছেন।
আমান উল্লাহ আমানের ভাষ্য, তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বৈরাচারমুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই নির্বাচনে জনগণ তারেক রহমানকে বেছে নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদ হত্যা মামলার কার্যক্রম আবারও চালু করা হবে বলে জানান আমান উল্লাহ আমান।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে এবং মাথা উচু করে দাড়াচ্ছে। এ অবস্থায় ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, গুপ্ত ও ফ্যাসিবাদী শক্তি নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে। জনগণ রক্তের বিনিময়ে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই অধিকার হারাতে দেওয়া হবে না। গণতন্ত্রের অর্জন ধরে রাখতে হবে এবং জনগণ কোনো ষড়যন্ত্র মেনে নেবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে আমান উল্লাহ আমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ড চালু, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ এবং খাল খননসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিব এবং পুরোহিতদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ সময় বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, দলের যুগ্ম মহাসচিব ও ডাকসুর সাবেক জিএস খায়রুল কবির খোকন, ডাকসুর সাবেক এজিএস নাজিম উদ্দিন আলম, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, জেলা বিএনপির সহসভাপতি কে এম শরফুদ্দিন মঞ্জু, জেলা বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক এবং উল্লাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহাব, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হেলাল সরকারসহ দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কবর জিয়ারত শেষে আমান উল্লাহ আমান শহীদ জেহাদের বাড়িতে যান এবং তার পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন। পরে শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের স্মরণে বৃক্ষরোপণ করা হয়।