প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৬ পিএম
ছবি: যাযাদিপিরোজপুরের নেছারাবাদে নিখোজের এক দিন পর বিপুল সিকদার (৫০) নামে এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার সারেংকাঠী ইউনিয়নের গয়েশকাঠী গ্রামে বাড়ির পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বিপুল সিকদার সারেংকাঠী ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিনোদ সিকদারের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোজ হন বিপুল। রাতে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোজাখুজি করেও তার সন্ধান পাননি। সোমবার দুপুরে বাড়ির পাশের ধানক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে এক ব্যক্তি তার মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।
নিহতের বড় ভাই বিধান সিকদার জানান, তার ভাই কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ঘটনার দিন দুপুরে বিধানের স্ত্রী মাধবী কথা বলার জন্য বিপুলকে ডাকলেও তিনি সাড়া না দিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। রাতে খোজাখুজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বিধান সিকদার বলেন, তাদের পরিবারের সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল বলে তারা জানেন না। তার ভাইয়ের শরীরেও দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাননি। তবে নিখোজ হওয়ার আগে বিপুল তার স্ত্রী মাধবীর গলার একটি চেইন স্থানীয় বাজারের এক স্বর্ণকারের দোকানে বন্ধক রেখেছিলেন। চেইনটি ফেরত আনার কথা স্ত্রী তাকে একবার বলেছিলেন। তবে এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কোনো বিরোধ হয়নি বলে দাবি করেন বিধান।
স্থানীয় চৌকিদার সুব্রত রায় জানান, বিপুল সাধারণ কৃষক ছিলেন। রোববার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর ফেরেননি। সোমবার দুপুরে বাড়ির পাশের ধানক্ষেতে তার মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহের পাশে একটি পুরোনো বিষের বোতল দেখা গেছে বলে জানান তিনি। তবে বোতলটি কী ধরনের ওষুধের, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ভিন্ন মত রয়েছে। কেউ কেউ সেটিকে ইরিধানে ব্যবহৃত ওষুধ বলে ধারণা করছেন।
পাটিকেলবাড়ী পুলিশ ফাড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মনসুর আহম্মেদ বলেন, মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা সম্ভব নয়।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।